পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই একটি ট্রলারডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ‘এমভি আওলাদ-৭’ লঞ্চটির রুট পারমিট ও সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
বুধবার (২৫ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার বামনিকাঠী লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলার চরলাটসাহেব এলাকার রেজাউল করীম (২৮) এবং একই উপজেলার নাছির ফকির (৪২)। তারা দুজনেই ট্রলারে তরমুজ পরিবহনের শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী থেকে প্রায় ৪শ’ তরমুজ নিয়ে একটি ট্রলার বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে লোহালিয়া নদীর বামনিকাঠী এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ ‘এমভি আওলাদ-৭’ ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে ট্রলারটি মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। ট্রলারে থাকা ছয়জনের মধ্যে চারজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কেবিনে থাকা রেজাউল ও নাছির ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ রাতের ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় এ সংঘর্ষ ঘটেছে।
দুর্ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিএ তাৎক্ষণিকভাবে ‘এমভি আওলাদ-৭’ লঞ্চটির চলাচলের অনুমতি স্থগিত করেছে। বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ ও ট্রলারের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পটুয়াখালীর সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. জাকী শাহরিয়ার জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় লঞ্চটির রুট পারমিট ও নির্ধারিত সময়সূচি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। যাত্রীদের যাতায়াতে যেন সমস্যা না হয়, সেজন্য বিকল্প লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
