More

    বরগুনা জ্বালানি সংকটে থেমে গেছে সাগরযাত্রা, বিপাকে জেলেরা

    অবশ্যই পরুন

    বরগুনার পাথরঘাটা দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসিতে গত তিন-চার দিন ধরে তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছে না শতাধিক মৎস্য ট্রলার। এতে ট্রলার মালিক ও জেলেদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। বুধবার (১ এপ্রিল) পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, অসংখ্য ট্রলার ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। কেউ ট্রলারের ডেকে বসে আছেন, কেউ জাল মেরামতে ব্যস্ত।

    তবে সবার চোখেমুখে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার ছাপ। ভুক্তভোগী একাধিক জেলে জানান, দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে জেলেরা সমুদ্র থেকে ধরা মাছ বিক্রি করেন।

    এরপর প্রয়োজনীয় রসদ, বরফ ও জ্বালানি সংগ্রহ করে আবার বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু হঠাৎ তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় এই স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। ফলে মাছ বিক্রির পরও অনেক মাঝি ট্রলার ঘাটে বেঁধে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলেদের অভিযোগ, বাজারে কিছু ব্যবসায়ীর কাছে ডিজেল থাকলেও তা খোলাখুলিভাবে বিক্রি করা হচ্ছে না। বরং বাড়তি লাভের আশায় গোপনে মজুত রাখা হচ্ছে। এতে করে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ট্রলার মাঝি বলেন, আমরা প্রতিদিন সাগরে গিয়ে মাছ ধরে পরিবার চালাই। কিন্তু তিন-চার দিন ধরে ডিজেল পাচ্ছি না। বাজারে তেল আছে শুনি, কিন্তু দোকানে গেলে বলে নেই। কেউ কেউ গোপনে বেশি দামে বিক্রি করছে। ডিজেল না পেলে সাগরে যাওয়া সম্ভব না। আরেক জেলে আবদুল মালেক বলেন, আমরা দিন এনে দিন খাই।

    ট্রলার সাগরে না গেলে আয়ও নেই। তিন দিন ধরে বসে আছি। ট্রলারে সব প্রস্তুত, শুধু ডিজেলের জন্য যেতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার না খেয়ে থাকবে। বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বলেন, পাথরঘাটার কয়েকটি জ্বালানি তেলের দোকানে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় তা গোপনে সংরক্ষণ করছে। ফলে জেলেরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না এবং বহু ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না।

    তিনি আরও বলেন, পাথরঘাটা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর। এখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ ওঠে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে শুধু জেলেরা নয়, পুরো মাছ বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে পাথরঘাটার তেল ব্যবসায়ী ফারুক ব্রাদার্স এর স্বত্বাধিকারী ফারুক হাওলাদার জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ডিপো থেকে কোটাভিত্তিক তেল সরবরাহ করা হয়, তবে বর্তমানে সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত।

    তিনি আরও বলেন, পাথরঘাটায় প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে মোট মাত্র পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এত কম সরবরাহে চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।

    এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি তেল মজুত করে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Wetten ohne Umwege – neue Wege abseits von Oasis entdecken

    Neue Perspektiven im Wettgeschäft: wettanbieter ohne oasis entdecken Wettanbieter ohne Oasis – was steckt dahinter? Das Thema Wettanbieter ohne Oasis gewinnt...