More

    নাজিরপুরে ক্লাস চলাকালে ফ্যান ছিঁড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

    অবশ্যই পরুন

    নাজিরপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরে পাঠদান চলাকালীন চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা ছিঁড়ে মাথায় পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের ৮১ নং জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ও জয়পুর গ্রামের সঞ্জীব সমাদ্দারের ছেলে সৌভিক সমাদ্দার (১১) এবং একই গ্রামের রেজাউল মাঝির মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১১)। সৌভিকের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    আহত ছাত্রী রাবেয়া খাতুন  জানান, বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ও পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে তৃতীয় শ্রেণির গণিত ক্লাস চলছিল। প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী ওই কক্ষে অবস্থান করছিল। ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ চালের চলন্ত পাখাটি ছিঁড়ে সৌভিকের মাথার ওপর পড়ে। এতে সে তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। একই সময়ে পাখার একটি ব্লেড ভেঙে রাবেয়ার মাথায় আঘাত করলে সেও  সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার পাশে থাকা আরো অনেকে আহত হয় তবে গুরুতর নয়।

    ঘটনার সময় পাঠদানরত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিক্তা মন্ডল বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের অংক করতে দিয়েছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি ফ্যানটি খুলে ওদের মাথার ওপর পড়েছে। আমি তাৎক্ষণিক অন্য শিক্ষকদের সহায়তায় ওদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি।”

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অতনু হালদার জানান,”দুইজন শিশুকে জখম অবস্থায় আনা হয়েছিল। একজনের মাথায় গভীর ক্ষত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা খুলনা মেডিকেলে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যজনের মাথার কানের কাছে অল্প কেটে গিয়েছে। আশঙ্কামুক্ত থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্নিগ্ধা রানী মন্ডল বলেন, “শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় পুরাতন ভবনটিতে ক্লাস নিতে হচ্ছিল। ভবনটি যে ঝুঁকিপূর্ণ আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে কোনদিন বলেনি।  ঘটনার সময় আমি লাইব্রেরীতে একটি মিটিংয়ে ছিলাম। মিটিং চলাকালীন কয়েকজন শিক্ষার্থীরা দ্রুত দৌড়ে আমাদের লাইব্রেরীর সামনে আসে তখন আমরা দ্রুত ওখানে গিয়ে দেখি দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। যে দুইজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে তাদেরকে দ্রুত নাজিরপুর হাসপাতালে নিয়ে আসি কিন্তু একজনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার  মোঃ আব্দুল হাকিম জানান, ঘটনা শুনেছি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেছেন। একজন শিক্ষার্থী অল্প আহত হয়েছে বেশি গুরুতর না। ওকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার বাবা-মা নিয়ে গেছে আর একজন শিক্ষার্থী একটু বেশি ইনজুরি হওয়ার কারণে তার বাবা-মা উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিয়ে গেছে শুনলাম। তবে সর্বশেষ যে খবর সে বাচ্চাটাও আপাতত সুস্থ আছে। তিনি আরও বলেন, জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়ে এলজিইডি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করা হবে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবো।

    পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নেওয়া এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Casoola Bitcoin vs Ethereum: Quale è Più Veloce

    Indice1. Fondamenti Tecnologici: Blockchain a Confronto2. Tempi Medi di Transazione e Conferma3. Commissioni di Rete (Gas Fees)4. Procedura di...