More

    বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে পথচলা: ফুটওভার ব্রিজের দাবীতে একজট বরিশাল

    অবশ্যই পরুন

    আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক:  সড়ক যত প্রশস্ত হচ্ছে, ততই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বরিশালের ১১ কিলোমিটার মহাসড়ক সহ আশেপাশের সংযোগ সড়কগুলো। নগরীর গড়িয়ার পাড় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ প্রায় সম্পন্নের পথে। আর এ সুযোগে বেড়েছে দ্রুতগামীতার প্রতিযোগিতাও। যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ লোকসমাগম স্থানগুলোতে রাস্তা-পার হতে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পরতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

    ইতোমধ্যেই রাস্তা পার হতে গিয়ে নগরীর সিএন্ডবি রোডে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানালেন সিএন্ডবি রোড সংলগ্ন কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। এছাড়াও নগরীর নথুল্লাবাদ, নতুনবাজার, বাংলাবাজার, সাগরদিতে যানজটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে এই ফুটওভার ব্রিজের অভাবে।

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের (২০২৬) প্রথম কয়েক মাসে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে ১৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে মার্চ মাসেই ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, মার্চ মাসে বরিশাল বিভাগে ৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন।

    এদের বেশিরভাগই সড়কে বাস দুর্ঘটনার শিকার হলেও পথচারীদের সংখ্যাও কম নয়। আর বাস দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ সংযোগ সড়কের যানবাহন বলে চিহ্নিত করেন তারা। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা বা পিরোজপুর যেতে অনেকগুলো বাজার, চৌরাস্তা ও তিন রাস্তার মোড় অতিক্রম করতে হয়।

    দ্রুতগামী যানবাহনের চলাচল এসব সড়কে। তাই বাজার এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়া উচিত। আর ব্রিজ নির্মাণের সময় প্রতিবন্ধী, পোয়াতি নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কথা মাথায় রেখে এক্সিলেটর বা হুইলচেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এই একই দাবিতে বরিশালে একাট্টা হয়েছেন সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের নেতারা।

    বরিশাল নগরীর আওতাধীন মহাসড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এই মুহূর্তে খুবই জরুরি বলে দাবি তুলেছেন তারা। নগরীর নথুল্লাবাদ, চৌমাথা, আমতলা মোড়ের পানির ট্যাংক, সাগরদি বাজার মোড় এবং রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে বরিশালের সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউনহলের সামনে মানববন্ধনও করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। বরিশাল সাহিত্য সংসদ, বরিশাল সাংস্কৃতিককেন্দ্র, বরিশাল ফ্রেন্ডস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্রুত অত্যাধুনিক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।

    তারা জরুরী ভিত্তিতে বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, চৌমাথা এলাকা এবং রুপাতলী বাস টার্মিনালে এক্সিলারেটরসমেত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। বরিশাল সাহিত্য সংসদ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক বলেন, ইজিবাইক ও অটোরিকশা এই শহরের বোঝা। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি নাগরিকদের পথচলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনিক দায়িত্ব।

    সিটি করপোরেশন এলাকায় এ দায়িত্ব সম্পূর্ণ সিটি মেয়র বা প্রশাসকের এর উপর বর্তায়। তাই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে, বিশেষ করে লোকসমাগম বেশি, স্কুল – কলেজের শিক্ষার্থীদের পারাপারের বিষয়টি লক্ষ্য রেখে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। ব্রীজ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এসব স্থানে জেব্রা ক্রসিং তৈরি করে একজন অন্তত ট্রাফিক কনস্টেবলকে দায়িত্ব দিতে হবে।

    মানিক বলেন, ইতঃপূর্বে কমিউনিটি পুলিশের সভায় আমি বহুবার এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। কিন্তু কেউ কোনো গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে হয়নি। এদিকে অত্যাধুনিক ফুটওভার ও এক্সিলারেটর ব্রিজ নির্মাণের দাবীতে স্যোসালমিডিয়ায় নিয়মিত পোস্ট করছেন বরিশালের সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাজী মিজানুর রহমান।

    এ নিয়ে তারাও মানববন্ধন করেছেন বহুবার। নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউনহলের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা জরুরী ভিত্তিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক্সিলেটর ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে বলেছেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারের বেশি মানুষ রাস্তা পারাপার করছেন।

    এদের মধ্যে নারী, শিশু, বয়স্ক বয়োবৃদ্ধ ছাড়াও অসংখ্য প্রতিবন্ধী রয়েছেন। যাদের পথচলা নিরাপদ করতে বরিশালের নথুল্লাবাদ, রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা, হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এবং আমতলার মোড় এলাকায় এক্সিলেটর নির্মাণ করতে হবে। এ সময় সামাজিক আন্দোলনের নেতা কাজী মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের যেটুকু রাস্তা আছে, সেটুকুই এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রহমতপুর থেকে নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পুরোটাই এখন মহাসড়ক।

    পদ্মা সেতু তৈরির পর থেকে এই সড়কে যানবাহনের চাপ অতিরিক্ত বেড়েছে। ফলে অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ইতোমধ্যেই শতাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়াও নগরীর বটতলা চৌমাথা ও জেলখানার মোড় এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের পথচলা দুরূহ।

    আর প্রতিবন্ধীদের অবস্থাতো অনুল্লেখযোগ্য। এজন্য ব্রিজ না হওয়া পর্যন্ত নগরীর প্রতিটি পয়েন্টে ট্রাফিক কনস্টেবল থাকা জরুরী বলে জানান তিনি। এমতাবস্থায় বরিশালের ট্রাফিক পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার শরফুদ্দিন বললেন, আমাদের লোকবল সংকটের কারণে প্রতিটি পয়েন্টে ট্রাফিক কনস্টেবল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রতিটি পয়েন্টেই আমার সার্জেন্ট টহল দিচ্ছেন।

    জেব্রা ক্রসিংটা আমাদের হাতে নয়, সিটি করপোরেশনের হাতে। মহাসড়কে আমরা সফল হলেও নগরীর ভিতরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে। তিনি বলেন, বর্তমান নগর প্রশাসক বরিশাল নগরীর সন্তান।

    তিনি নিশ্চয়ই এসব সমস্যা সম্পর্কে অবগত আছেন। আমরাও মনে করি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ফুটওভার ব্রিজ খুবই জরুরি প্রয়োজন বলে জানান ট্রাফিকের এই কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে নগর প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    গৌরনদীতে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত: ব্যবসায়ীকে জরিমানা, তেল জব্দ

    গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চর সরিকল গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। বুধবার...