বরিশালে শের-ই-বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী চৈতী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় সড়কে নিরাপত্তা ও হত্যাকারী চালকের বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ রোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
পরে বিচারের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ থেকে সরে আসে তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় কলেজ রোডে শের-ই-বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈতী আহত হয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়।
পরে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকের বিচার ও সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চৈতীর সহপাঠীরা সড়ক অবরোধ করে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করে। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, ব্যাটারিচালিত রিকশার কেন এমন গতি থাকবে, যার ধাক্কায় একটা মানুষের প্রাণ চলে যাবে। আমরা এ অনিরাপদ যানবাহন চলাচল বন্ধ চাই। সড়কে নিরাপত্তা চাই।
পাশাপাশি ঘাতক চালককে আটক ও তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধ থাকায় ঘটনাস্থলে যান বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিণ। তার আশ্বাসে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিলকিস জাহান শিরিণ জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাটি জব্দ রয়েছে। চালককে আটক করে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী।
এদিকে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, চৈতী তার মায়ের সঙ্গে জিয়া সড়ক এলাকার বাংলালিংক টাওয়ার সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। তার বাবা ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। স্কুল ছুটির পর রাস্তা পার হওয়ার সময় পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা এসে তাকে ধাক্কা দেয়।
তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্কুলের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, স্কুলের সামনে গতিরোধক নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে ছয় মাস ধরে দাবি জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
