বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকরা দ্রুত সমাধানের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পাঁচ কার্যদিবসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন পদন্নোতি প্রাপ্য শিক্ষকরা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে এক চিঠির মাধ্যমে এই আল্টিমেটাল দেওয়া হয়।
চিঠির বরাতে জানা গেছে, প্রায় ৬০ জন শিক্ষক বিভিন্ন মেয়াদে (৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত) পদোন্নতির জন্য আবেদন করে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা ও আস্থাহীনতা বাড়ছে। তাদের দাবি, এই অনিশ্চয়তা শুধু পেশাগত জীবন নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেছে, ইতোমধ্যে ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপকের সিলেকশন বোর্ড সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়নি এবং পদোন্নতি কার্যকর করা হয়নি। তারা এটিকে প্রশাসনিক বিলম্ব নয়, বরং সরাসরি অবিচার হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া আরও ৩৬ জন শিক্ষক যারা সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তাদের জন্য এখনো কোনো বোর্ড বসানো হয়নি। ফলে সামগ্রিকভাবে পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে দেওয়া আবেদনে দুটি প্রধান দাবি হল
১) আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া সিলেকশন বোর্ডের ভিত্তিতে ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতি কার্যকর করতে হবে।
২) বাকি আবেদনকারীদের জন্য একই সময়ের মধ্যে পদোন্নতি বোর্ড আহ্বান করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় তা সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদনে বলা হয়েছে, পদোন্নতি কোনো অনুগ্রহ নয়। এটি যোগ্য শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা পরিবেশের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে।
পদন্নোতি প্রত্যাশী সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মোস্তাকিম রহমান বলেন, শিক্ষকরা বারমবার ভিসি স্যারের সাথে দেখা করেছেন। ভিসি স্যার নানা ভাবে শিক্ষকদের অশ্বাস্ত করেছে। কিন্তু দিন শেষে ভিসি স্যার তার জায়গায় ঠিক থাকেন নি। সে জায়গা থেকেই একটা চিঠি দিয়েছি। আমরা তার সাথে কর্মদিবসে দেখা করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তিনি সময় বের করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি আজকে রাতে দেখা করার সময় দেয়। আমরা আজকে দেখা করে এই চিঠি দিয়েছি। এখন দেখার বিষয় তিনি কি করেন আমাদের জন্য।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. তৌফিক আলম বলেন, আজকে শিক্ষকদের সাথে খুব সুন্দর ভাবে একটা আলোচনা হয়েছে। আশা করি অতিদ্রুত সময়ের ভিতর আমরা সমাধনে পৌঁছাতে পারবো।
