More

    পিরোজপুরে কেয়ারটেকারকে নির্যাতন, ডিবির ওসিসহ তিন পুলিশ প্রত্যাহার

    অবশ্যই পরুন

    পিরোজপুরে চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মেসের কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকিরকে নির্যাতনের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ওসিসহ তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) তাদের প্রত্যাহার করা হয়। তারা হলেন- ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম এবং দুই কনস্টেবল মো. কাওসার ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    ভুক্তভোগী ইউনুস ফকির পিরোজপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি পুলিশ অফিসার্স মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার টাকা চুরির অভিযোগে ডিবি পুলিশ ইউনুসকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটক করে। এ সময় তাকে অমানবিকভাবে মারধর করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।

    এমনকি তার স্পর্শকাতর অঙ্গে মোমের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি গোপন রাখতে প্রথমে তাকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের ঘটনা আড়াল করতে ইউনুসকে ভিন্ন বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকে পুলিশ সুপারের কাছে নেওয়া হলে তিনি বিস্তারিত শুনে মেসের ঝাড়ুদার শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল চুরির কথা স্বীকার করলে পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে এবং ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেয়।

    ইউনুসের ভাতিজি মাহমুদা বলেন, আমরা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও কেউ আমাদের কথা শোনেনি। আমার চাচাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. স্বাগত হাওলাদার বলেন, ইউনুসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার পুরুষাঙ্গে পোড়ার আলামত পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। অভিযোগের বিষয়ে ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত।

    তবে আমি কোনো নির্যাতন করিনি। আমাদের এক সোর্স রান্নাঘরে নিয়ে মোমবাতি দিয়ে এ কাজ করেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী বলেন, ঘটনার তদন্তে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ইউনুসের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় জেলা পুলিশ বহন করবে। তিনি আরও বলেন, ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম এবং দুই কনস্টেবল মো. কাওসার ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Casoola Bitcoin vs Ethereum: Quale è Più Veloce

    Indice1. Fondamenti Tecnologici: Blockchain a Confronto2. Tempi Medi di Transazione e Conferma3. Commissioni di Rete (Gas Fees)4. Procedura di...