More

    তাপপ্রবাহে পুড়ছে বরিশাল

    অবশ্যই পরুন

    অব্যাহত তাপপ্রবাহে পুড়ছে সমগ্র বরিশাল অঞ্চল। গত ১৫ দিনেও বৃষ্টির দেখা না মেলায় তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওপরে উঠে গেছে। তীব্র গরমের সঙ্গে অব্যাহত বিদ্যুৎ ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে। বর্তমানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই লোডশেডিং চলছে। বরিশাল অঞ্চলে ৮০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গত ১৫ দিন ধরে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

    বিদ্যুৎ সঙ্কটে বোরো ধানসহ বিভিন্ন রবি ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। তীব্র এই তাপপ্রবাহে কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা মাঠে নামতে পারছেন না। এমনকি জেলেরাও মাছ ধরতে নদীতে নৌকা ভাসাতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে ইতোমধ্যে বাজারে মাছের সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অফিস আরও দুই দিন তাপমাত্রা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে আগামী সোমবার বরিশালের দু-এক জায়গায় বৃষ্টিসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। গতকাল শুক্রবারের মতো আজ ও কাল তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    টানা ১২৭ দিন পর গত ৯ মার্চ এ অঞ্চলে প্রথম বৃষ্টি হলেও মার্চ মাসে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল ৪৯ শতাংশ। চলতি মাসে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর আর দেখা মেলেনি। ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতেও গরমে অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফসলের মাঠে পানির বাড়তি চাহিদার মধ্যে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে নানা কারসাজিতে কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বরিশাল অঞ্চলের মাঠে থাকা প্রায় ৪ লাখ হেক্টর বোরো ধানের জমিতে সেচকাজে যে ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্প ব্যবহৃত হচ্ছে, তার প্রায় ৭৪ হাজারই ডিজেলচালিত।

    এসব পাম্পে দৈনিক গড়ে ৫ লাখ লিটারের বেশি ডিজেল প্রয়োজন হলেও সরবরাহ এখনো নির্বিঘœ নয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তুলতে হলে পুরো মে মাসজুড়ে জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেড় থেকে দুই ইঞ্চি পানি রাখতে হবে। ফলে সেচ অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। লাগাতার এই তাপপ্রবাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

    শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১০০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং মারা গেছে ১৭টি শিশু। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৭০৪ জন। বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ও তীব্র দাবদাহে কৃষক পরিবারগুলো এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    তাপপ্রবাহে পুড়ছে বরিশাল

    অব্যাহত তাপপ্রবাহে পুড়ছে সমগ্র বরিশাল অঞ্চল। গত ১৫ দিনেও বৃষ্টির দেখা না মেলায় তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি...