More

    পিরোজপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত

    অবশ্যই পরুন

    পিরোজপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট তীব্র আকার ধারণ করায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি, এমনকি শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলেও মোমবাতিই হয়ে উঠেছে আলোর অন্যতম ভরসা। এতে হু হু করে বেড়ে গেছে মোমবাতির চাহিদা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও জিয়ানগর উপজেলাসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

    চলমান এসএসসি ও আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকার পরই আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য লোডশেডিং শুরু হচ্ছে। দিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়-আসে তার হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

    রাতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে; গভীর রাতেও মিলছে না কোনো স্বস্তি। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পিরোজপুর সদর উপজেলার নামাজপুর এলাকার বাসিন্দা তামান্না আক্তার বলেন, দিন-রাত মিলিয়ে এতবার বিদ্যুৎ যায় যে, স্বাভাবিক কাজকর্ম করা কঠিন হয়ে গেছে। বিশেষ করে গরমে ছোট শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

    একই উপজেলার কদমতলা এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বলেন, রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না, আবার দিনের বেলায়ও কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনারও বড় ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে একযোগে একাধিক এলাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। জিয়ানগর বাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী ইমদাদুল হক জানান, এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোমবাতির চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।

    আগের তুলনায় এখন প্রায় তিনগুণ বেশি মোমবাতি বিক্রি হচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণেই মোমবাতির বিক্রি বেড়েছে। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ইন্দুরকানী সদর ও পত্তাশী ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা খন্দকার দিদার হোসেন বলেন, পুরো উপজেলায় মোট ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, তবে আমরা পাচ্ছি মাত্র ২ মেগাওয়াটের মতো। বাকি ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি বহন করতে হচ্ছে। ইন্দুরকানী সদর ও পত্তাশীতে ২.৫০, পাড়েরহাটে ৩ এবং বালিপাড়া ও চণ্ডীপুর ইউনিয়নে ২.৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে।

    পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ফুয়েল সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। জেলার চাহিদা প্রায় ৭১ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৪৯ থেকে ৬০ মেগাওয়াটের মধ্যে।

    কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ১০টি সাব-স্টেশনে বিদ্যুৎ বণ্টন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    I’ve previously mentioned you to debit notes are an individual favourite

    When to try out at the online casinos, you happen to be presented with multiple alternatives which could hunt...