More

    মানবেন্দ্র ও জাকির হোসেনকে বরিশাল প্রেসক্লাব পরিচালনার নির্দেশ

    অবশ্যই পরুন

     শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটি বহাল রাখতে আদেশ দিয়েছে আদালত। নির্বাচন পূর্ববর্তী দায়েরকৃত মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটিই (সভাপতি মানবেন্দ্র বটব্যাল ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধিন পরিষদ) প্রেসক্লাবের যাজতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

    রবিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন এর আবেদনের প্রেক্ষিতে বরিশালের সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক মো. মনিরুজ্জামান প্রেসক্লাবের সার্থে এ আদেশ দিয়েছেন। এর আগে গত বুধবার এসএম জাকির হোসেন প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানান।

    এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে প্রেসক্লাবে সদস্য পদ প্রাপ্তির পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের নেয়া তিন বছরে সদস্য না নেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ২০২১ সালের কার্যকরি পরিষদের নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে মামলা করেন দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার বরিশাল প্রতিনিধি এম. কে রানা।

    তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক ২৪ ডিসেম্বর বরিশাল প্রেসক্লাব নির্বাচনসহ সকল কার্যক্রমের ওপর স্থিতিবস্থা জারির নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে বর্তমান কার্যকরী কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি প্রদান করে।

    কিন্তু নির্বাচন কমিশন কার্যকরী পরিষদের চিঠি উপেক্ষা করে একতরফাভাবে নিম্ম কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেয়া স্থিতিবস্থার আদেশ স্থগিত করেন।

    তার আগেই নিম্ব আদালতের স্থগিতাদেশ এবং প্রেসক্লাব কার্যকরী কমিটির চিঠি পেয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন থেকে দু’জন কমিশনার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। কিন্তু তার পরেও উচ্চ আদালতের আদেশের বলে গত ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত তারিখে একতরফাভাবে প্রেসক্লাব কার্যকরি কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

    অপরদিকে, নির্বাচনের শুরু থেকেই কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের কার্যক্রম এবং পক্ষপাতিত্বমূলক আচারণের অভিযোগ উঠে। এমনকি নির্বাচন পরবর্তী ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের প্রমাণ খুঁজে পান প্রার্থীরা।

    নির্বাচনে পরাজিত এবং বিজয়ী উভয় প্যানেলের প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ‘প্রধাণ নির্বাচন কমিশনার একটি পক্ষের হয়ে কাজ করেছেন। আদালতের আদেশের পর তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন থেকে দু’জন পদত্যাগ করা সত্যেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম.এম. আমজাদ হোসাইন একতরফাভাবে নির্বাচনের আয়োজন করেন। নির্বাচনের দিন তিনি একজন সহযোগী নিয়োগ দিলেও সে বিষয়ে কার্যকরী কমিটির কোন মতামত বা আলোচনা করেননি।

    প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়েছে তা সুস্পষ্ট। নির্বাচনে মোট সংগৃহীত ভোটের বাইরে এক থেকে তিনটি পর্যন্ত ব্যালটের সংখ্যা বেশী থাকাই নির্বাচনে অনিয়ম হওয়ার বড় প্রমাণ।

    প্রার্থীরা বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে প্রেসক্লাবের ৮০ জন ভোটারের মধ্যে ৭৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে থেকে সাতটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যালট বালিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ৬৯ টি ভোটে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার কথা। সেখানে মোট সংগৃহীত ভোটের ব্যালটের থেকে অতিরিক্ত ভোট দেখা যাচ্ছে।

    এর উদাহরন টেনে প্রার্থীরা বলেন, ‘সভাপতি পদে এক প্যানেলের সভাপতি মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান পেয়েছেন ৪০ ভোট এবং প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেলের প্রার্থী কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল পেয়েছেন ৩১ ভোট। অনূরূপ সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী মিরাজ মাহমুদ পেয়েছেন ৪১ ভোট এবং কাজী আল মামুন পেয়েছেন ৩১ ভোট।

    দুই ব্যানেলের দুটি পদে প্রার্থীদের মোট প্রাপ্ত ভোট এবং বাতিল হওয়া সাতটি ভোট যোগ করলে মোট সংগৃহীত ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৯টি। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী সংগৃহীত ভোটের এক থেকে তিনটি ভোট বেশী বলে দাবি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের।

    তারা আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রতি বছর নির্বাচন পরবর্তী রাতেই প্রেসক্লাবের নোটিশ বোর্ডে নির্বাচিত এবং পরাজিত প্রার্থীর ভোটের সংখ্যা এবং ফলাফল টানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এ বছর শুধুমাত্র নির্বাচিত প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল নোটিশ বোর্ডে দেয়া হলেও পরাজিতদের ফলাফল গোপন রাখা হয়েছে। তাছাড়া নিয়ম রয়েছে ভোটের পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্যালট বেপার কার্যকরি পরিষদের কাছে হস্তান্তর করবে। কিন্তু তা না করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটের রাতেই ব্যালট পেপার নিজের বাসায় নিয়ে লুকিয়ে রেখেছেন। এমনকি নির্বাচনে যে আয় এবং ব্যায় হয়েছে তার হিসাবও দেননি তিনি।

    এসব কারণে নির্বাচনে অনিয়ম এবং কারচুপি’র অভিযোগ এনে নির্বাচন পরবর্তী নবনির্বাচিত শপথ গ্রহণ এবং দায়িত্ব গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দৈনিক দখিনের মুখ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আরিফিন তুষার। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চ নতুন কমিটিকে আগামী ৩ মাসের জন্য দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেয়ার জন্য কার্যকরি কমিটিকে নির্দেশ দেয়। এ কারণে ৭ জানুয়ারি নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশের কারণে নবনির্বাচিত কমিটি দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারেনি।

    অপরদিকে, প্রেসক্লাবে তিন বছরের জন্য সদস্য না নেয়ার বিষয়ে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং সদস্য পদে অন্তর্ভুক্তি’র আবেদন জানিয়ে করা মামলা চলমান থাকাবস্থায় প্রেসক্লাবের সার্থে ক্লাবের সকল কার্যক্রম চালিয়ে নিতে অনুমতি চেয়ে গত বুধবার বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আবেদন করেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন।

    তার আবেদনের প্রেক্ষিতে দোতরফা শুনানি শেষে রবিবার আদালতের বিচারক মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কমিটিকে ক্লাবের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে অনুমতি দিয়েছেন। আদালতের দেয়া আদেশে বলা হয়েছে, ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব। তাই প্রেসক্লাবের সার্থে বর্তমান কমিটি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবের যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হল।’

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল প্রেসক্লাব কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ২০২১ এর ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আরিফিন তুষার বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধিন রয়েছে, তাই এ নিয়ে আপাতত কোন মন্তব্য করতে চাই না। তবে এতোটুকু বলতে পারি নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আমাকে জোর করে পরাজিত করেছে। প্রেসক্লাব নির্বাচনে এক সঙ্গে সাতটি ব্যাটল বাতিলের নজির নেই। সেটা এবারের নির্বাচনে হয়েছে।

    অপরদিকে, ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম, এখনো আছি। আদালত বর্তমান কমিটিকে যেভাকে ক্লাব পরিচালনার আদেশ দিয়েছে সেভাবেই করা হবে। তাছাড়া উচ্চ আদালতে যে মামলাটি রয়েছে সে বিষয়েও আমরা উচ্চ আদালতে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

    facebook sharing button
    twitter sharing button
    pinterest sharing button
    whatsapp sharing button
    messenger sharing button
    sharethis sharing button

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Rasantes_Hühnchen-Abenteuer_und_chickenroad_für_schnelle_Reflexe_garantieren

    Rasantes Hühnchen-Abenteuer und chickenroad für schnelle Reflexe garantierenDie Dynamik des Straßenverkehrs und ihre HerausforderungenStrategien zur Vermeidung von KollisionenPunktesystem und...