More

    ছাত্রলীগকে বিতর্কে ফেলতে নয়া মিশনে কথিত ছাত্রলীগ!

    অবশ্যই পরুন

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছায়া ও সমর্থনে ’৬০ দশকে ছাত্রলীগ সবচেয়ে শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগকে স্বাধীনভাবে এগিয়ে চলতে উৎসাহিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু কখনোই ছাত্রলীগকে সাংগঠনিকভাবে তার পদানত, অনুগত, অন্ধ অনুসারী সংগঠন বা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত করেননি।দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমানে ছাত্রলীগ নিয়েই অনেকেই শ্লেষ্মাত্মক ও হতাশার কথা বলেন।অনেকেই বলার চেষ্টা করেন ‘পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে লাভ হলো কী?’ যত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের উত্তরাধিকারই হোক না কেন, নীতি-আদর্শবিবর্জিত আখড়া বর্তমান ছাত্রলীগকে ঘৃণা করা কি ভুল? ’৯০ দশকেও ছাত্রলীগ নামে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন থাকলেও আওয়ামী লীগের অঙ্গ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ (মুজিববাদী) ও জাসদের সহযোগী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী)-এ দুটি ছাত্রলীগ শিক্ষাঙ্গন ও ছাত্র আন্দোলনে প্রবল অবস্থানে ছিল। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ ছাত্ররা, সাধারণ মানুষ ছাত্রলীগ বলতে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকেই (মুজিববাদী) চেনে। ছাত্রলীগ (মুজিববাদী) প্রবল দাপটের সঙ্গে শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষাঙ্গনের বাইরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।ছাত্রলীগ নামে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন থাকলেও ছাত্রলীগ (মুজিববাদী) নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে নিজেদের স্বার্থে কথিত ছাত্রলীগ কর্মীদের জন্ম দিচ্ছে তাতে সংগঠনটিকে এতটাই বিতর্কিত করে ফেলেছে যে, ছাত্রলীগ নামটাই বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ নামের অন্য সংগঠনগুলোকেও এ অপবাদ নিয়ে পরিচয়ের বিভ্রান্তি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।তাই এখন দুর্বল অবস্থায় অস্তিত্ব রক্ষা ও ঘুরে দাঁড়ানোর কষ্টকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

    সম্প্রতি ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগে মাস্ক পরে হামলা চালায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল। এ সময় বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয় কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান বাচ্চুকে। নিয়ে যাওয়া হয় বিভাগের সিসিটিভির হার্ডডিস্ক ড্রাইভ।এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা হয় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায়। ঘটনার ২১ দিন পর এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ আলিফ হোসেন হীরা ও শাকিল আহমেদ।রোববার টেইলারিং ব্র্যান্ড টপ টেনের বরিশাল শোরুমে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায়ও এসেছে এই দুইজনের নাম। শাকিলকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। হীরাকে করা হয়েছে মামলার ১০ নম্বর আসামি।টপ টেন শো রুমের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক তরুণের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।পাঞ্জাবি পরা ওই ছেলেকে জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মচারী মারুফ হাসান টিটু বলে শনাক্ত করেন স্থানীয় ছাত্রলীগের একাধিক কর্মী। তবে তারা কেউই তাদের নাম প্রকাশে রাজি হননি।আলোচিত এই ঘটনায় ২১ জনের নাম এবং ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত করে কোতোয়ালি মডেল থানায় সোমবার মামলা করেন টপ টেন শোরুমের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ইমরান শেখ। এদের মধ্যে পাঁচ জনকে রোববার হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মামলার ১ নম্বর আসামি আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। হামলার সময় গোল দাগ চিহ্নিত ব্যক্তিকে ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মারুফ হাসান টিটু বলে শনাক্ত করেছেন স্থানীয় ছাত্রলীগের একাধিক কর্মী বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সদর রোডে রোববার সন্ধ্যার ওই ঘটনার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।তারা বলছেন, ঘটনায় যারা জড়িত তাদের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে,রয়েছে পুলিশের গাফিলতিও। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মামলার ১৪ জন আসামি বরিশালের মেট্রাপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক আনিসুর রহমান। সুত্র,নিউজ বাংলাআসামিরা হলেন কলেজ এভিনিউ এলাকার মারুফ হাসান টিটু, নিউ সার্কুলার রোডের মুহিদুল ইসলাম মুহিদ, লুৎফর রহমান সড়কের তাজিম হাওলাদার, কলেজ রোড এলাকার সৈয়দ আলিফ হোসেন হিরা, শুভ শীল, সুখ রানা হক, গনপাড়া এলাকার সুজন, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হাসান রনি, হাটখোলা রোড এলাকার নাদিম মাহমুদ হৃদয়, কলেজ রোড এলাকার ফাহিম হোসেন, লুতফর রহমান সড়কের আল আমিন হোসেন সোহান, কাশিপুর মহুয়া এলাকার মিজান শরীফ, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার নয়নপুর এলাকার ইকবাল হোসেন ও নগরীর কশাইখানা এলাকার নিলয় আহম্মেদ রাব্বি।পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার মামলায় নামধারী ২১ জনের অধিকাংশ বরিশালের প্রভাবশালী তিন ছাত্রলীগ নেতার অনুসারী।অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক টিটু জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি ফেসবুকের মেসেঞ্জারে সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের সঙ্গে টিটুর বেশ কিছু ছবিও রয়েছে ।মামলায় গ্রেপ্তার এক নম্বর আসামি রাকিব জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রাজিব হোসেন খানের মিছিলের ছবিতে তাকে সামনের সারিতেই দেখা গেছে। গ্রেপ্তার রাকিব বরিশাল সিটি করপোরেশনের যানবাহন ও লাইসেন্স শাখার কর্মচারী।শাকিল পরিচিত জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিমের অনুসারী হিসেবে। টপ টেনে হামলার পর মুনিমের সঙ্গে শাকিলের ছবি ভাইরাল হয় ফ
    েসবুকে। বিএম কলেজে হামলার ঘটনাতেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শাকিল।টপ টেনের মামলার ১০ নম্বর আসামি সৈয়দ আলিফ হোসেন হীরাকে বিএম কলেজে হামলার ঘটনায়ও গ্রেপ্তার করেছিলেন কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক প্রলয় কান্তি। তাকেও সবাই আতিকুল্লাহ মুনিমের অনুসারী হিসেবেই চেনেন।এ প্রতিবেদকের কাছেও ওই নেতার সঙ্গে হীরার প্রচুর ছবি এসেছে।সোহান, ফাহিম, শুভসহ মামলার আসামিদের অনেকেই জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, আতিকুল্লাহ মুনিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খানের অনুসারী বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল জেলা ছাত্রলীগেরই দুই সহসভাপতি।এ বিষয়ে জানতে প্রথমে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। পরিচয় দেয়া হলে তিনি জানান, এক অসুস্থ রোগীর সামনে আছেন। একটু পরে ব্যাক করবেন।এর পর তিনি আর কল ব্যাক করেননি। পরে তাকে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। সাড়া না মেলায় হোয়াটস অ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি জবাব দেননি।ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খান ও সহসভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিমের সঙ্গেও। কিন্তু তারা ফোন ধরেননি।ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি।ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না- জানতে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাককে ফোন করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই সংযোগ কেটে দেন। পরে তাকে আবার ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।বরিশালের গবেষক ও লেখক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘কলেজের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার হলে দ্বিতীয়বার একই অপরাধীরা অপরাধ করতে সাহস পেত না এবং শহরে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করতে পারত না।’তিনি বলেন, ‘দুই মাসের মধ্যেই ঈদ। ঈদের মধ্যেই বরিশালের বাজার জমজমাট থাকবে। এর আগে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে।’বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘কারো রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা তাদের অপরাধী হিসেবেই দেখছি। এ ধরনের অপরাধ যারা করেছে তাদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Be involved in some lighter moments challenges and you can objectives in return for advantages

    If this is a gaming webpages for your https://hrvatska-lutrija-hu.com/ requirements, strike the on the-page banners and get been now....