More

    স্বল্প খরচে বেশি ফলনে খুশি সরিষা চাষিরা

    অবশ্যই পরুন

    স্টাফ রিপোর্টারঃ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন সরিষা চাষিরা। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও আট ইউনিয়নের চাষিরা বর্তমানে সরিষার পরিচর্যা নিয়ে ব্যাপক সময় পার করছেন। জমি থেকে পাকা সরিষা সংগ্রহ করতে পারলেই কৃষকদের দুশ্চিন্তা দূর হবে। এদিকে, মাঠে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখে খুশি কৃষকরা।

    সরেজমিনে জেলার শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ মাঠগুলো সরিষা ফুলের হলুদ রঙে রঙিন দেখা গেছে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শ্রীপুর উপজেলায় ২৮৯ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন জাতের সরিষার আবাদ হলেও টরি-৭, বারি-১৪, বীনা-৯ সহ কয়েক জাতের আবাদ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেকেই আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ করেছেন। এতে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন হচ্ছে।

    উপজেলার বলদিঘাট গ্রামের চাষি ফজলুল হক বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েই চলছে, তাই তেলের চাহিদা মেটাতে আমি সরিষার চাষ করছি। প্রতি বছর নিজেদের জন্য ১০ শতক জমিতে সরিষা চাষ করতাম। কিন্তু স্থানীয়দের চাহিদা পূরণ করতে এবার আরও এক শতক বেশি সরিষার চাষ করেছি।

    কাওরাইদ ইউনিয়নের বিধাই কৃষক রমিজ উদ্দীন জানান, জমি তৈরি করা থেকে ফলন ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় সাত বিঘা জমিতে সরিষা আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তিনি প্রায় ২০ মণ সরিষার পাবেন বলে আশা করছেন।

    উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের শৈলাট গ্রামের চাষি আব্দুল জলিল জানান, অল্প খরচ ও স্বল্প সময়ে সরিষার ফলন ঘরে তোলা যায়। ঝড়বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি মৌসুমে সরিষার ফলনও হয়েছে বেশ। রোদে শুকিয়ে গুদামজাত করে পরে বিক্রি করতে পারলে সরিষার বাজারদর বেশি পাওয়া যাবে। কিন্তু সংসারে খরচের জন্য ফসল তোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি করে দিতে হবে।

    পৌরসভার উজিলাব গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, বারি-১৭ গাছের উচ্চতা হয় দেড় থেকে দুই ফুটের মতো। আগে সরিষা গাছ বড় হলেও ফলন কম হতো। নতুন জাতের ছোট আকারের এ সরিষা গাছের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত সরিষা আসছে। বীজ বপনের ৭০ দিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে সরিষা সংগ্রহ করা যায়। এবার প্রতি বিঘা জমি থেকে ৬-৭ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছি। অন্য বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হবে।

    চাষি জামাল উদ্দিন জানান, বিঘা প্রতি জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। মণ বিক্রি করা যায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়। গড়ে প্রতি বিঘাতে সাত মণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকা লাভ করা যায়। সরিষা আবাদে সেচের প্রয়োজন না হওয়ায় কম সময়ে আবাদ করা যায়। তবে বড় শত্রু জাব পোকা হলেও এবার এর আক্রমণ দেখা যাচ্ছে না।

    শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, সরিষা চাষাবাদে কৃষকেরা প্রথম দিকে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। তবে স্বল্প খরচে বেশি ফসল উৎপাদনের কথা শুনলে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। উপজেলার এক পৌরসভা ও আট ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ বিতরণ ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অব্যাহত থাকবে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Be involved in some lighter moments challenges and you can objectives in return for advantages

    If this is a gaming webpages for your https://hrvatska-lutrija-hu.com/ requirements, strike the on the-page banners and get been now....