More

    যুদ্ধের ভিডিও দেখে কৃত্রিম হাত তৈরি করে হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছে বরিশালের প্রীতম

    অবশ্যই পরুন

    রোবোটিক আর্ম বা মানব দেহে সংযোজনের জন্য কৃত্রিম হাত তৈরি করে ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলায় হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম পাল।

    এই ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম বরিশাল অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রীতম আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা ও রাজিহার ইউপি সচিব গৌতম পাল ও গৃহিণী কাজলী পালের বড় সন্তান। প্রীতম গৈলা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হন।

    ২৯ জানুয়ারি বরিশাল সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলায় রোবোটিক আর্ম বা মানব দেহের জন্য কৃত্তিম হাত তৈরি করে তা প্রদর্শন করে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন প্রীতম। প্রীতমের এই এই সাফল্যর জন্য বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিথীকা সরকারের স্বাক্ষরিত সনদপত্র তার হাতে তুলে দেন অতিথিরা।

    ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম জানান, অনলাইনে যুদ্ধের একটি ভিডিওতে দেখতে পান দীর্ঘদিন পর বাবা বাড়ি আসছে। তাই অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে আছে সন্তানরা। কলিং বেল চাপতেই দরজা খুলে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো সন্তানরা। সন্তানদের আশা বাবা তাদের জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিয়ে আদর করবে। আবার সন্তানদের ভাবনা এলো বাবা ফুল দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে হাত হয়তো তার পেছনে রেখে সারপ্রাইজ দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটলো না, কারণ যুদ্ধে হারিয়ে ফেলেছেন একটি হাত। কোনোভাবেই সন্তানদের জড়িয়ে আদর করতে না পারলো না বাবা।

    ভিডিওটি দেখে কৃত্রিম হাত তৈরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। স্বপ্ন দেখা থেকে মানব কল্যাণে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একাগ্র চিত্তে মনোযোগী হন প্রীতম। অধ্যবসায়ের কারণে সেই স্বপ্ন বাস্তবে ডানা মেলে।

    প্রীতম আরো জানান, হোস্টেলে থেকে তার বাবার কাছ থেকে আনা পড়ালেখার খরচ থেকে কিছু অর্থ সঞ্চয় করে প্রথমে এই উদ্ভাবনী কাজে মনোযোগ দেন। কালক্রমে উদ্ভাবনী বিষয়টি তার সহপাঠী ও বাবাও জানতে পারেন। বাবা উৎসাহিত করায় মাঝেমধ্যে বাবার কাছ থেকেও চেয়ে নিতেন অর্থ। নিজের সঞ্চয় ও পরিবারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় শুরু করে এই রোবোটিক আর্ম এর পিছনে। নিরলস পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের কারণে প্রীতমের দেখা স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেয় তার মানব কল্যাণের উদ্ভাবনীতে।

    শিক্ষার্থী প্রীতম জানান, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সারাদেশসহ সারা বিশ্বের অনেক লোকদের তাদের হাত হারাতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য বাকী জীবন তারা কর্মহীন হয়ে পড়ে। গলগ্রহ হয় অন্যর ওপর। এমন মানুষের জন্যই তার আবিস্কৃত রোবোটিক আর্ম বা কৃত্তিম হাত মানবদেহে সংযোজন করা যেতে পারে। মানবদেহে এই কৃত্তিম হাত সংযোজন করলে যেখানে মানুষের হাত পৌঁছানো সম্ভব নয় এমন ভারী যান্ত্রিক স্থানেও এই কৃত্তিম হাত অনায়াসে কাজ করতে পারবে। স্বাভাবিক ভাবেই এই হাত দুই থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম। হেভিওয়েট হাত হিসেবে এর স্থায়ীত্বও অনেক বেশি। ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতমের উদ্ভাবিত কৃত্তিম হাত তৈরিতে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

    আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন তথা মানব দেহে কৃত্তিম হাত সংযোজনের মাধ্যমে একজন মানুষকে স্বাবলম্বী হয়ে বেঁচে থাকার জন্য কৃত্তিম হাত বা রোবোটিক আর্ম এর যুযোপযোগী উন্নয়ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারজাত করতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্টপোষকতার জন্য তার উদ্ভাবন নিয়ে আরো কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম।

    প্রীতমের বাবা ইউপি সচিব গৌতম পাল জানান, তার ছেলের উদ্ভাবন নিয়ে তিনি আনন্দিত। মানব কল্যাণে কাজ করায় ছেলের আর্থিক চাহিদা পূরণ করে আসছেন তিনি। তবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পেলে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রীতম তার উদ্ভাবনীতে আরো সাফল্য পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে সকলের সহযোগিতা প্রার্থনা করেন তিনি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Beef Tennis Markets Explained

    InhaltGrundlegende Tennis-Wettmärkte: Matchwinner und SetzenSpezialisierte Märkte: Total Games und Correct ScoreLive-Wetten und AuszahlungsgeschwindigkeitPraktische Tipps für den EinstiegHäufige Fehler und...