More

    কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা ব্যস্ত পশু প্রস্তুত করতে

    অবশ্যই পরুন

    ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঝালকাঠি জেলায় কোরবানীর পশু প্রস্তুত এবং বাড়তি পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন খামারিদের ব্যাস্ততা চোখে পড়ার মত। এ বছর কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রানী সম্পদ অফিস। প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগন মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।

    তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কোরবানি যোগ্য পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ) সংখ্যা নির্ধারণ করেন অধিদপ্তর। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাদের হিসেবে অনুযায়ী জেলায় এবার মোট কোরবানি যোগ্য পশুর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩৪টি। সেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার ৫৩টি।

    হিসেব অনুযায়ী কোরবানি যোগ্য পশু বেশিও রয়েছে। এতে করে কোরবানির পশু সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট থাকবেনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ভারতীয় গরুর প্রবেশ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ভাবে গরু ছাগল পালনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আবার ব্যাক্তিগত উদ্যোগে ছোট-বড় খামার গড়ে তুলেছেন। ফলে কোরবানির পশুর জন্য বাইরের ওপর নির্ভরতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

    এ বছর প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করনে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে, যাতে করে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই স্বাস্থ্য সম্মতভাবে পশু বাজারজাত করা যায়। রাজাপুর উপজেলার সাংগর গ্রামের খামারি মোফাজ্জল হোসেন জানান, কয়েকমাস আগে থেকেই খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়গুলো পরিকল্পনা করে এগিয়েছেন তারা। নিয়মিত খড় ভুষি, ঘাস এবং পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো হয়েছে।

    তবে গো খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে তাই বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা বলে জানান তিনি। নারী উদ্যোক্তা ঝর্ণা বেগম জানান, বড় গরুর পাশাপাশি মাঝারি আকারের গরু ছাগল পালন করছেন তিনি। কারন এগুলোর চাহিদা বেশি থাকে। এতে ঝুকিও কমথাকে এবং বিক্রির সম্ভাবনাও বাড়ে। তরুন উদ্যোক্তা খামারি আমিনুল হক এর নিজস্ব খামারে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট-বড়-মাঝারি নানান রং এর ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল।

    আমিনুল হক জানান, তার খামার ৭৩টি ছাগল রয়েছে এর মধ্যে ১৭টি পাঠা (পুরুষ জাত) সবগুলো ছাগলই তার নিজের সার্বিক তত্বাবধানে সুস্থ এবং সবল আছে। খামারি সরোয়ার হোসেন জানায়, করোনার পরে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের সুতোয় গবাদিপশুর দানাদার খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এখনো খামারিরা সেই বাড়তি দামেই দানাদার খাদ্য কিনে পশুকে খাওয়াতে হচ্ছে। বেশিদামে খাদ্য কিনে গরুপালন করে লাভ হচ্ছে না ফলে গরু পালন ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। খামারিদের সাথে আলাপকালে জানাগেছে, কোরবানিকে সামনে রেখে কয়েক মাস ধরেই তারা পশুদের যত্নের সাথে মোটাতাজা করন, পরিচর্যা, ও বাজারজাতের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

    তারা আশা করছেন, বাজারে পশুর চাহিদা ভালো থাকলে তারা ন্যায্য দাম পাবেন। সরকারের নিকট তাদের দাবি বিগত বছরের মত এবছর যাতে ভারতীয় গরু দেশে অহরহ না ঢোকে তাহলে আমরা দেশি গরুর ভালো দাম পাবো। ঝালকাঠি জেলা প্রানী সম্পদ অফিসার ডা. নিরোদ বরণ জয়ধর জানান, ঝালকাঠি জেলায় এ বছর পশুর উৎপাদন সন্তোষজনক। খামারিদের প্রশিক্ষণ, রোগপ্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি এবং পশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষা জেলাশহর থেকে ৪টি উপজেলার গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পশুর স্বাস্থ্য জোরদার করা হয়েছে।

    সবমিলিয়ে কোরবানির ঈদকে ঘিরে ঝালকাঠির গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন নীতি-সহায়তা, প্রযুক্তি ব্যাবহার এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে কোরবানি কেন্দ্রিক এই অর্থনীতি আরও বড় পরিসরে এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋন, বাজার সংযোগ আর পশু স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা উন্নত করা জরুরী।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Berechtigte Spiele: Pass away Slots unter anderem Tischspiele fur das Prasentation qualifizieren

    Jede kostengunstige Möglichkeit angeordnet spezifische Durchspielbedingungen. Vorweg mark Abbestellung ein Gewinne sollen User den vordefinierten Leistungsverstarker beruhren, der in...