বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে মেঝেতেও এখন পা রাখার স্থান ফাঁকা নেই। দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি এ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানটির ৭০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় এখানকার পুরো স্বাস্থ্যসেবাই ভেঙে পড়ার উপক্রম।
ধারণক্ষমতার প্রায় ৫ গুণ রোগী চিকিৎসাধীন থাকার পাশাপাশি এ ওয়ার্ডটির জন্য বরাদ্দকৃত জনবলও অপ্রতুল। শিক্ষানবীশ কিছু চিকিৎসকই মূলত এ ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবার মূল ভরসা বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ হাজার শয্যার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শনিবার প্রায় ৪০০ রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। এর মধ্যে হাম উপসর্গ নিয়েই ভর্তি ছিল প্রায় ১৬০টি শিশু।
শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও গড়ে ৩০টি শিশু চিকিৎসাধীন থাকছে। ফলে এ হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে এক চরম অমানবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুরো শিশু ওয়ার্ডই ইতোমধ্যে দুর্ভোগের খাতায় নাম লিখিয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠার প্রায় ৬০ বছর পরেও এ হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে কোনো ভেন্টিলেটর স্থাপন করা হয়নি। কিছু ইনকিউবেটর থাকলেও তার বেশিরভাগই দীর্ঘদিনের পুরোনো।
এমনকি ৫ যুগ পরেও শিশু ওয়ার্ডের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেই। অপরদিকে এ হাসপাতাল থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে আমানতগঞ্জ এলাকায় গত ৮ বছর ধরে একটি শিশু হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ চললেও তা কবে পরিচালনক্ষম হবে, সে বিষয়টি এখনো অজ্ঞাত। এখনো এ হাসপাতালের কোনো সরঞ্জাম সংগ্রহসহ জনবল মঞ্জুরি হয়নি। নির্মিত হয়নি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন। বসেনি লিফট। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওই শিশু হাসপাতালটির দায়িত্ব গ্রহণের কথা বলা হলেও জনবলের অভাবসহ ইলেক্ট্রোমেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট, অন্যান্য সরঞ্জাম এবং বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
এমনকি পৃথক একটি শিশু হাসপাতাল হিসেবে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করলে তা আর ভিন্ন কোনো হাসপাতাল থাকবে, নাকি মূল হাসপাতালের ওয়ার্ড হিসেবে পরিচালিত হবে— সে বিষয়টিও পরিষ্কার করা হয়নি মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে। আর মূল হাসপাতাল থেকে এ শিশু হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার হওয়ায় সেখানে নজরদারি এবং কলেজে ক্লাস নিয়ে কোনো অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের পক্ষে ওই হাসপাতালে গিয়ে রোগী দেখা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে।
এমনকি মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষেও এত দূরে হাসপাতালটিতে গিয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে গত প্রায় ৮ বছর ধরে নির্মাণাধীন এ শিশু হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের আগেই এর ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনিমের সঙ্গে আলাপ করা হলে তিনি জানান, তাঁর হাসপাতালের শিশু বিভাগে সব সময়ই মাত্রাতিরিক্ত রোগী থাকে। তার ওপর সাম্প্রতিক হাম উপসর্গ নিয়ে রোগীর আগমন আরও বেড়ে গেছে। প্রতিদিন হাম উপসর্গ নিয়ে গড়ে অর্ধশতাধিক রোগী এ ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে।
ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ছে। শিশু হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। আমরা সার্বিক বিষয় অবহিত করেছি। পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
