More

    আজ ভালোবাসা দিবস, আজ পহেলা ফাল্গুন

    অবশ্যই পরুন

    শীত চলে যাবে রিক্ত হস্তে, আর প্রকৃতিতে বসন্ত আসবে ফুলের ডালা সাজিয়ে। বাসন্তী ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যাবে শীতের জরাজীর্ণতা। প্রকৃতির দক্ষিণা দুয়ারে বইবে ফাগুনের হাওয়া। কোকিলের কণ্ঠে বসন্তের আগমনি গান। ফুলে ফুলে ভ্রমর করবে খেলা। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। সবকিছুই জানান দেবে আজ পহেলা ফাল্গুন।

    দিনটির আবেদন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ‘ভালোবাসা দিবস’। প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি সেই দিন যখন একজন মানুষ আরেকজনের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করে ভালোবাসার বার্তাসহ কার্ড, ফুল বা চকোলেট পাঠিয়ে থাকে।

    কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘শেষের কবিতা’য় অপু বলেছিল, ‘দোহাই তোদের, একটুকু চুপ। ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।’ কবি জন ডন এই অভিব্যক্তি তার কবিতায় প্রকাশ করেছিলেন এই ভাবে, ‘ফর গড’স সেক হোল্ড ইউর টাং, অ্যান্ড লেট মি লাভ’।

    শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষই ভালোবাসার এই দিনে একসঙ্গে সময় কাটাবেন। দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও যেন পায় নতুন রূপ। আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান-এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই।

    অন্যদিকে আজ ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/আজ বসন্ত।’ প্রকৃতির মতোই শিল্প-সাহিত্য বসন্ত বাঙালির জীবনে তাৎপর্যময়। এ বসন্তেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। বসন্তেই বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের শুরু। বসন্তের আগমনবার্তা নিয়ে আসে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ ও ‘অমর একুশে বইমেলা’। বসন্তে কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনে ভালোবাসার রঙে রাঙাবে।

    আজ উৎসবে মেতে উঠবে নগরবাসী। ফুলের মঞ্জরিতে মালা গাঁথার দিন বসন্ত শুধু প্রকৃতিকেই রঙিন করেনি, আবহমানকাল ধরে বাঙালি তরুণ-তরুণীর প্রাণও রঙিন করেছে। তাই আজ পহেলা ফাল্গুনের সুরেলা এ দিনে তরুণীরা খোঁপায় গাঁদা-পলাশ ফুলের মালা গুঁজে বাসন্তী রঙের শাড়ি পরবে আর ছেলেরা পাঞ্জাবি-পায়জামা কিংবা ফতুয়ায় খুঁজে নেবে শাশ্বত বাঙালিয়ানা। পহেলা ফাল্গুনে ভিনদেশি ভ্যালেনটাইন দিবসটি এখন বাঙালির বসন্ত উৎসব উদযাপনের নতুন অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভিন ভাষায় যা ‘সায়া সিন টামো’, ‘আই লাভ ইউ’, ‘ইস লিবে ডিস’ তা মায়ের ভাষায় ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। মানেটা হলো-বলার ধরন ভিন্ন হলেও ভালোবাসার ভাষা অভিন্ন।

    একজন বিখ্যাত সেইন্ট বা ধর্মযাজকের নাম থেকে দিনটি এমন নাম পেয়েছে। তবে তিনি কে ছিলেন-তা নিয়ে বিভিন্ন গল্প রয়েছে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন সম্পর্কে জনপ্রিয় বিশ্বাস হলো তিনি খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে রোমের একজন পুরোহিত ছিলেন। সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস বিবাহ নিষিদ্ধ করেছিলেন। কারণ তার মনে হয়েছিল, বিবাহিত পুরুষরা খারাপ সৈন্য হয়ে থাকে। কিন্তু ভ্যালেন্টাইন মনে করেছেন, এটি অন্যায়। তাই তিনি নিয়মগুলো ভেঙে গোপনে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। ক্লডিয়াস যখন এই খবর জানতে পারেন, তখন তার আদেশে ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় ভ্যালেন্টাইন কারাপ্রধানের মেয়ের প্রেমে পড়েন। ১৪ ফেব্রুয়ারি যখন তাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, তখন ভ্যালেন্টাইন ওই মেয়েটির উদ্দেশ্যে একটি প্রেমপত্র পাঠিয়ে যান। যেখানে লেখা ছিল, ‘তোমার ভ্যালেন্টাইনের পক্ষ থেকে’।

    ভ্যালেটাইন দিবস পালনে বিশ্বব্যাপী ভিন্নতা রয়েছে। ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডের জন্ম ব্রিটেনে চতুর্দশ এবং পঞ্চদশ শতাব্দীতে। অন্যান্য দেশের মতো কার্ড, ই-মেইল ও উপহারসামগ্রীর মাধ্যমে প্রিয়জনকে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করা হলেও ব্রিটিশদের মধ্যে ফুল আদান-প্রদানের ঝোঁকটা একটু বেশি দেখা যায়। ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’কে ঘিরে পদ্য লেখাটাও ব্রিটেনের ঐতিহ্যের অংশ।

    উনিশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ অধিবাসী প্রথম উত্তর আমেরিকায় ভ্যালেন্টাইনস ডের ধারণা নিয়ে আসে। ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ ছড়িয়ে যায় পুরো আমেরিকায়। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে গিফট কার্ড আদান-প্রদানের রীতি এলো। সে সময় কার্ড এবং গোলাপ ছিল ভ্যালেন্টাইনের মূল উপহার। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ডায়মন্ড কোম্পানিগুলো ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ পালন করা শুরু করে। সেই থেকে জুয়েলারি চলে আসে প্রচলিত গিফটের তালিকায়। ‘ভালোবাসা’ সবচেয়ে আদিম ইমোশন হলেও ভালোবাসা দিবসটিকে আমেরিকায় চরম বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, ভালোবাসা দিবসে সবচেয়ে বেশি কার্ড ও উপহার বিক্রি হয়।

    ভালোবাসা দিবসটি যেন শুধু নারীদের জন্য। এ দিনটিতে দেশটির নারীরা কাছের মানুষকে নানা ধরনের চকোলেট উপহার দেন। কে কী ধরনের চকোলেট উপহার দেবেন, সেটা নির্ভর করে পরস্পরের সম্পর্কের ওপর। ‘গ্রি-চকো’ নামের চকোলেট দেওয়া হয় অফিসের কর্তাব্যক্তি ও সহকর্মীদের। অন্যদিকে ‘হনমেই চকো’ নামের চকোলেট শুধু পুরুষ সঙ্গী বা স্বামীকে দেওয়া হয়। জাপানি নারীরা প্রেমিক বা স্বামীকে যে চকোলেট দেন, সেগুলো কষ্ট করে নিজেরা তৈরি করেন। এ সময় পুরুষরা সাধারণত কোনো ধরনের উপহার দেন না। ভালোবাসা দিবসের ঠিক এক মাস পর জাপানি পুরুষদের জন্য আসে ‘হোয়াইট ডে। এ দিনে তারা প্রিয় নারীকে ভালোবাসা দিবসে দেওয়া উপহারের প্রতিদান দেন।

    অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সের তরুণ-তরুণীদের শতাংশেরও বেশি এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সিদের প্রায় ৪৫ শতাংশের ভ্যালেন্টাইন উদযাপনের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো। অস্ট্রেলিয়ানরা এই দিনকে দেখে থাকে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও বেশি মজবুত করার দিন হিসেবে।

    ইটালিতে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বসন্ত উৎসব হিসেবে উদযাপন করা হয়। একসময় খোলা আকাশের নিচে নানা ধরনের অনুষ্ঠান হতো। তরুণ-তরুণীরা গান, আবৃত্তি শুনত। এরপর ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে বাগানে ঘুরে বেড়াত তারা। কিন্তু কয়েক শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে ইটালিতে। এখন ইটালিতে আমেরিকার মতো ছুটির দিন থাকে। অনেকটা ‘হ্যালোইন’ আর ‘মাদারস ডে’র মতো। উপহারের তালিকায় থাকে চকোলেট, পারফিউম, গোলাপ আর ডায়মন্ড।

    কানাডায় ভালোবাসার বিশেষ দিনটি বেশ উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। সারা দেশে বল ড্যান্স এবং পার্টি থাকে। এদিন প্রিয়জনকে জানায় ভালোবাসার কথা। গোলাপের প্রাধান্য এখানে বেশি। এরপর চকোলেট, কার্ড আর ক্যান্ডি তো আছেই। শিশুরা বন্ধুদের সঙ্গে কার্ড বিনিময় করে। নিজের হাতে উপহার বানিয়ে শিক্ষক এবং বাবা-মাকে দেয়। দিনটিকে উদযাপন করতে স্কুলের সিনিয়র সেকশনে থাকে ড্যান্স পার্টি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Immergez-vous dans le Monde Vibrant de Shiny Wilds : Une Expérience de Casino Inégalée

    Lorsqu'il s'agit de casinos en ligne, le volume d'options peut être accablant, rendant difficile pour les joueurs de trouver...