More

    ১৪ বছরে স্থবির উন্নয়ন, ফুসছে ববি শিক্ষার্থীরা

    অবশ্যই পরুন

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি)  প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজন শিক্ষক উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। অবকাঠামো থেকে শুরু করে হয়নি চোখে পড়ার মতো কোনো উন্নয়ন। শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যরা বড় বড় প্রত্যাশার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত করেননি বাস্তবায়ন। তাই, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার ছন্দ মিলিয়ে বলেছেন, ১৪টি বছর পার হয়ে গেল কেউ কথা রাখেনি।

    ববির  ১৪ বছরে  তৈরি হয়েছে নানা সংকট। বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে। আবার পাঠদান কক্ষ নেই পর্যাপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমে জমি অধিগ্রহণ ও ভিত্তি প্রস্তর পরবর্তী ভবন পর্যন্তই অবকাঠামোগত উন্নয়ন। পরে তেমন কোনো বড় অবকাঠামো হতে দেখা যায়নি। হয়নি নতুন করে কোনো একাডেমিক ভবন। এ ছাড়া নেই অডিটোরিয়াম, পাকা রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভালো কোনো পরিবেশ। আর আবাসন সংকট তো আছেই।

    কীর্তনখোলা নদীর তীরে ১৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখনও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। বর্তমানে ২৫টি বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৫টি শ্রেণিকক্ষের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৩৬টি। ফলে প্রায়ই খোলা মাঠে পাঠদান করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে এবং সেশনজট আরও প্রকট করে তুলছে।

    নানামুখী সংকটে এবার ফুসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা  টানা ছয়  দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আয়তন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

    এর আগে গত ২৯ জুলাই একই দাবিতে মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী স্বাক্ষর দিয়ে এই তিন দফা দাবির প্রতি একমত প্রকাশ করেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আবু বক্কর বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হতে যে সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তার সবকিছু থেকেই আমরা বঞ্চিত। আমরা এই বৈষম্যের অবসান চাই এবং আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে হবে।

    শিক্ষার্থী অমিও মন্ডল বলেন, ববিতে নবাগত শিক্ষার্থীরা প্রথম দিন থেকেই নিরাপদে বাসে চলাচল, স্বচ্ছন্দে ক্লাস এবং আবাসিক হলে থাকার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরও সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। আমরা চাই—এই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হোক। যদি বাস্তবায়ন না হয় তবে আমাদের আন্দোলন  চালিয়ে যাব।

    এদিকে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা অনুমোদন করেছে। পরিকল্পনা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হুমায়ন কবির বলেন, ‘৩ কোটি ৯ লাখ টাকার ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুমোদিত হয়েছে। এখন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হবে, তারপর একটি কনসাল্টিং ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা কাজ করবে, আমরা সহায়তা করব। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর হলেও আমাদের ৯ মাসে শেষ করতে হবে। এরপর এটি ইউজিসির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে একনেকে পাঠানো হবে। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট অনেক। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়া এগুলো কাটানো সম্ভব নয়। ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে, আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।

    বর্তমানে ক্যাম্পাসের আয়তন ৫০ একর, যা পর্যাপ্ত নয়। আরও অন্তত ২০০ একর জমি প্রয়োজন। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একবার কথা হয়েছে, শিগগিরই আবার আলোচনা করব।’

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    De , des eprouve identiquement furieux l’agreable ebahissement de vous faire livrer 50 tours gratuits

    En effet, il n'y a qu'a toi degorger en ce qui concerne nos creations en collaborateur de jeu legerement...