More

    ববিতে অবৈধ পদোন্নতিতে বছরে দেড় কোটি টাকার লোকসান

    অবশ্যই পরুন

    অবৈধ পদোন্নতির খেসারত হিসাবে প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হলেও বাতিল হয়নি পদোন্নতি।

    বরং আইনি ব্যবস্থায় গিয়ে এ পদোন্নতিকে বৈধ করার পরিকল্পনা করছে তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম দফার পদোন্নতি নিয়ে ইউজিসির নিরীক্ষা আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি যথাযথভাবে সমাধান না করে পুনরায় ২০২৪ সালের ৩০ জুন নতুন করে আরও ১৮ জনকে সেকশন অফিসার পদে অবৈধ পদোন্নতি দেওয়া হয়। ফলে দুই দফার পদোন্নতি কার্যক্রমে অর্গানোগ্রামে পদ না থাকা সত্ত্বেও ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

    এ সময় অবৈধ পদোন্নতি পান-সহকারী পরিচালক (লাইব্রেরি) একজন, সহকারী রেজিস্ট্রার (ডিন অফিস) পাঁচজন, সহকারী রেজিস্ট্রার (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস) একজন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে ৪৫ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে একজন। এছাড়া কুকার পদে (রেজিস্ট্রার কার্যালয়) পাঁচজনকে অবৈধ পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৯ ও ২০ নভেম্বর ইউজিসির বাজেট পর্যবেক্ষণ দল এ পদোন্নতির আপত্তি জানায়।

    তখন পর্যবেক্ষণ দল আপত্তি শেষে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে পদ না থাকা সত্ত্বে এসব পদে নিয়োগ/পর্যায়োন্নয়ন প্রদান ও বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় নিয়মের ব্যত্যয় ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উল্লেখ করা হয়-অর্গানোগ্রামবহির্ভূত ও কমিশনের প্রশাসনিক এবং আর্থিক অনুমোদনবিহীন পদে নিয়োগ/পর্যায়োন্নয়ন প্রদান করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয় ববিকে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের সংশোধিত এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের মূল বাজেটে এ ৬০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বরাদ্দ ধরা হয়নি বলে লিখিতভাবে জানায় ইউজিসির পর্যবেক্ষণ দল। যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    এরপরও তারা অবৈধ পদোন্নতির বেতন-ভাতা গ্রহণ করছে। তাদের এ অবৈধ পদোন্নতি ধরে রাখতে আইনি পদক্ষেপের কথাও ভাবছেন সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ দুই দফার পদোন্নতি কার্যক্রমে যুক্ত থাকা ববির দুই উপাচার্য দায়িত্ব পালনকালে প্রায় একই সুরে বলেছিলেন শতভাগ নীতিমালা মেলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ, উপাচার্যদের চাপে ফেলে এ ৬০ জন তাদের অবৈধ পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন।

    এই চাপ প্রয়োগের কার্যক্রম বর্তমানেও চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছে ববি সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। এ বিষয়ে জানতে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের একজন আল আমিনকে ফোন করা হলে তিনি ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলাপ করার কথা বলে ফোন কেটে দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পদোন্নতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলেছেন, পুরোনো অর্গানোগ্রামের কারণে বছরের পর বছর তাদের পদোন্নতিতে এত জটিলতা হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনের দাবি জানান তারা।

    ববির উপপরিচালক (অর্থ ও হিসাব) এএসএম ইকবাল মিঞা বলেন, তাদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। ববির প্রক্টর ড. রাহাত ফয়সাল বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না।

    ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে একাধিকবার তার মোবাইল ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে ইউজিসি অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের পরিচালক রেজাউল করিম হাওলাদারের মোবাইল ফোনে কল দিলে তাকে পাওয়া যায়নি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    বানারীপাড়ায় ৫২ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    রাহাদ সুমন ,বিশেষ প্রতিনিধি:  বরিশালের বানারীপাড়ায় ডিবি ও থানা পুলিশের মাদকবিরোধী পৃথক বিশেষ অভিযানে কাওছার ও মেহেদী হাসান হীরা...