More

    বরিশালে এক বছরে বেকার বেড়েছে ৩ হাজার

    অবশ্যই পরুন

    ষাট বছরের সালাম হোসেন কাজ করতেন শহরের অপসো স্যালাইন ফার্মার স্টোরিপ্যাক (সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট প্রস্তুতকারক) বিভাগে। তিনি জানান, অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ৪ দিনের ছুটিতে পাঠানো হয় তাকে। এরপর হঠাৎ জানতে পারেন তিনিসহ ৫৭০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চাকরি হারিয়ে দিশেহারা তিনি।

    সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা সবই এখন প্রশ্নবিদ্ধ বলে জানান সালাম হোসেন। একই প্রতিষ্ঠানের আরেক যুবক রাসেল জানান, সদ্য বিবাহিত ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। চাকরি হারিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। শুধু অপসোনিন নয়- বরিশাল শহরের মেডিমেট, ফরচুন সুজ, অমৃত পানিসহ অন্তত দশটি প্রতিষ্ঠান থেকে গত ১১ মাসে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। নানা সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে একাধিক কারখানার শাখা।

    শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনকে কেন্দ্র করে হয়েছে হামলার মতো ঘটনাও। তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে ছাটাই হয় ১৬০ জন কর্মচারী। জুনে অমৃত পানির কারখানা বন্ধ হয়ে চাকরি হারান শতাধিক ব্যক্তি, অক্টোবরে অপসো স্যালাইন থেকে একসঙ্গে ছাটাই হয় ৫৭০ জন আর মেডিমেট থেকে ছাটাই হয় ১১ জন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে বরিশাল বিভাগে বেকারত্বের সংখ্যা এক লাখ ৩৯ হাজার। এরসঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ছাটাইয়ের শঙ্কা।

    তথ্য বলছে, হিসেবের বাইরে গত এক বছরে ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে চাকরি হারিয়ে বরিশালে বেকারত্বে যুক্ত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। শহরের রুপাতলী মেডিমেট ফার্মাসিটিক্যালস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোনিয়া আক্তার জানান, সঠিক সময়ে বেতন পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করেন শ্রমিকরা। এ নিয়ে পরবর্তীতে মালিকপক্ষ বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করে ১১ শ্রমিককে। রুপাতলীর বটতলা এলাকায় অবস্থিত আরেকটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা ব্লোয়িং লিমিটেড।

    শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনকে কেন্দ্র করে গত ১০ অক্টোবর মালিকপক্ষের লোকজন হামলা করে শ্রমিকদের ওপর। সেসময় আহত হন প্র‍ায় আট শ্রমিক। কারখানাটির শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, ১১ দফা দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন।

    যা নিয়ে তখন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপকের দাবির খসড়া দেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে মালিকপক্ষ পরিকল্পিতভাবে দালাল শ্রমিকদের দিয়ে তাদের ওপর হামলা করায়। বাসদ বরিশাল জেলার সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘বিনা নোটিশে ছাটাইয়ের ফলে শ্রমিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পরিবারগুলো আর্থিক দৈন্যতায় দিন কাটাচ্ছেন। অবিলম্বে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত।’

    অর্থনীতিবিদ আখতারুজ্জামান খান জানান, তার মতে বরিশাল অপার সম্ভাবনাময় একটি জেলা। এখানে কৃষিসহ সব খাতই লাভজনক। শুধু প্রয়োজন সরকারের সু-দৃষ্টি। অন্যথায় স্থানীয় অর্থনীতিতে চাপ দূর করা সম্ভব নয়।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Gebrauchstauglichkeit, Sprachunterstutzung unter anderem effectuer Geschaftsbedingungen spielten hinein der Bevorzugung eine individuelle Person

    Eltern den ersten schritt machen inside Rouletten Einsatzen mit einfachen Entwicklungsmoglichkeiten, wie gleichfalls rot/verboten ferner eben/ungerade, in denen ihr...