More

    বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর, মালপত্র লুট

    অবশ্যই পরুন

    বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কার্যালয় ভাঙচুর ও মালপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে পলাতক যুবলীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। এসময় ভাঙচুর করা হয় একই তলায় থাকা ‘গণশিল্পী সংস্থা’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিসও।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে রাখাল বাবুর পুকুর পাড়ে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, তিন মাসের ভাড়া বকেয়া থাকার অজুহাতে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজামের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা তামিমের নেতৃত্বে ভাঙচুর করা হয়েছে দুটি কার্যালয়। এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক এসএম নজরুল ইসলাম নিলু।

    তবে এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম। ওয়ার্কার্স পার্টির সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা শাখার সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ৪০ বছর বেশি সময় ধরে দ্বিতল টিনশেড বাড়ির নিচতলায় ওয়ার্কার্স পার্টির পাশাপাশি ছাত্র মৈত্রী, যুব মৈত্রী, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন এবং দ্বিতীয় তলায় গণশিল্পী সংস্থার কার্যক্রম চলে আসছে। তিনি আরও বলেন, বরিশাল মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজামের কাছ থেকে অফিসটি ভাড়া নেয়।

    নিজামুল ইসলাম নিজাম নিজেই আমাদের কাছ থেকে মাস শেষে ভাড়া আদায় করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছে। তার মধ্যেও আমরা নিয়মিত ভাড়া দিয়ে আসছিলাম। তবে সবশেষ তিন মাসের ভাড়া বকেয়া ছিল। এজন্য কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বৃহস্পতিবার সকালে আমাদের অজান্তে দুটি কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে।

    লিখিত অভিযোগে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম নিলু বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কার্যালয়ের মালিক ও যুবলীগ নেতা নিজামুল ইসলাম নিজামের ছেলে তামিম ও তার ভাড়া করা লোকজন অফিসে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। অফিসের চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করে এবং ১টি সিলিং ফ্যান ও ১টি স্ট্যান্ড ফ্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র এবং মালামাল নিয়ে যায় তারা। এতে দলীয় কার্যালয়ের লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে লিখিত অভিযোগে।

    এদিকে খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। একই সময় ভাঙচুরের খবর পেয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাবার আগেই পালিয়ে যান অভিযুক্ত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা তামিম। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    তবে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। বাড়ি মালিক এবং ভাড়াটিয়া দ্বন্দ্ব। ভাড়াটিয়াদের কাছে তিন মাসের ভাড়া বকেয়া। এজন্য দুই মাস আগে ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছিল বাড়ি মালিক। কিন্তু সেটা না করায় আজ ভাঙচুর হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি দুপক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। তারা এলে বিষয়টি সমাধান বা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Newcomers’ Guide to Casino Gaming: A Friendly Introduction

    Stepping into the world of casinos can seem daunting at first, especially for those who are new to the...