আমতলী উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের গাছ কাটায় নজরুল প্যাদা, তার স্ত্রী ও ছেলেসহ চারজনকে ভাই নান্টু প্যাদা, হারুন প্যাদা ও তাদের লোকজন পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত নজরুল প্যাদা এমন অভিযোগ করেছেন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মৃত্যু নুরুল ইসলাম প্যাদার তিন ছেলে নান্টু প্যাদা, নজরুল প্যাদা ও হারুন প্যাদার মধ্যে বাড়ির জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন করে বিরোধ চলে আসছে। ২০২০ সালে স্থানীয়রা ওই জমিজমা বণ্টন করে দেয়। নান্টু প্যাদা ও হারুন প্যাদার তাদের জমির গাছগাছালি ওই সময়ে বিক্রি করে দেয় এমন দাবি নজরুল প্যাদার। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নজরুল প্যাদা তার জমির গাছ কাটতে যায়। এ সময় নান্টু প্যাদা ও হারুন প্যাদা তাতে বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায় নান্নু প্যাদা ও হারুন প্যাদারসহ তাদের লোকজন নজরুল প্যাদার ওপর হামলা চালায়। নজরুল প্যাদাকে (৪০) রক্ষায় তার স্ত্রী রিপা বেগম (৩৫), ছেলে তানিম প্যাদা (১৭) ও বৃদ্ধ চাচা মতি প্যাদা (৭০) এগিয়ে আসলে তাদেরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মাসুম বিল্লাহ তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন।
আহত নজরুল প্যাদা বলেন, ২০২০ সালে স্থানীয়রা আমাদের তিন ভাইয়ের জমিজমা ভাগ-বণ্টন করে দেন। নান্টু ও হারুন প্যাদার তাদের জমির গাছ ওই সময়ে বিক্রি করে দেয়। আমি গাছ বিক্রি করিনি। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আমি আমার জমির গাছ কাটতে গেলে হারুন ও নান্টু প্যাদা বাঁধা দেয়। এক পর্যায় তারা আমাকে মারধর করে। আমাকে রক্ষায় আমার স্ত্রী রিপা বেগম, ছেলে তানিম ও বৃদ্ধ চাচা মতি প্যাদাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, আহত তিন জনের হাত, পা ও মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। চারজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার এসআই রমিজ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ঘটনা জেনেছি। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
