পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় আব্দুল্লাহ নামের এক যুবকের ঠোঁট কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েছে পাগলা কুকুর। এ ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৩৫ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর, রাজাখালী, পিরতলা বন্দর, দুমকি ও জলিশা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর একের পর এক মানুষকে কামড়াতে শুরু করে। এ সময় এক ব্যক্তির মুখে কামড় দিলে তার ঠোঁট ছিঁড়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে এলে সেখানে হুলুস্থূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ আহতের ক্ষত পরিষ্কার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর কয়েকজনকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- আব্দুল্লাহ (১৯), ইউসুফ, মফিজুর রহমান (৭০), তানিয়া (৩), তানিয়া (২৮), মাহিনুর বেগম (৩৮), জব্বার ঘরামী (৬০), রিমা (২০), মনোয়ারা বেগম (৫৫), ফরিদা বেগম (৫০), নাইমুল (২), মাধবী রানী (৪০), জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮) ও খোকন (৪০)। অন্যদের নাম জানা যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. জিএম এনামুল হক বলেন, সকাল থেকে হঠাৎ করেই একের পর এক কুকুরে কামড়ানো রোগী আসতে থাকে।
আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের দ্রুত ভ্যাকসিনেশন অত্যন্ত জরুরি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা বেগম বলেন, ঘটনা জানার পরপরই আমি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অফিসের সমন্বয়ে কুকুরটিকে আটকের চেষ্টা করা হয়।
আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১টার দিকে ভেটেরিনারি কর্মচারী ও স্থানীয়দের সহায়তায় পাগলা কুকুরটিকে মেরে ফেলা হয়।
