ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে দীর্ঘদিন ধরে রান্নাবান্না চলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন যেখানে প্রসূতি নারীদের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়, সেখানে কিছু সিনিয়র স্টাফ নার্স গ্যাসের চুলায় রান্না করছেন এবং অপারেশন থিয়েটারের কক্ষ শয়নকক্ষ হিসেবেও ব্যবহার করছেন। এতে প্রসূতি মা ও নবজাতকরা মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে রান্নার এমন ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, হাসপাতালের কয়েকজন নার্স অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে গ্যাসের চুলায় পিঠা তৈরি করছিলেন এবং অন্যরাও সেখানে অবাধে যাতায়াত করছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে এসব দৃশ্য প্রকাশ্যে আসে।
ভিডিওতে দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারের পাশের কক্ষে সিজারিয়ান অপারেশন চলাকালেও রোগীর স্বজন ও বহিরাগতদের অবাধ চলাচল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে প্রায় দুই বছর ধরে রান্নাবান্না চলছে। নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন হলেও কিছু সিনিয়র স্টাফ নার্স থিয়েটারের কক্ষকে রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আইরিন আক্তার নামের এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “যাদের আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকার কথা, তাদের কাছেই আমরা অনিরাপদ। আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা অসহায় হয়ে এসব অব্যবস্থাপনা দেখেও সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছি। কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এই দায় এড়াতে পারে না।” বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ কনসালটেন্ট ও সহকারী পরিচালক ডা. জালাল উদ্দিনকে।
সদস্য হিসেবে রয়েছেন সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আদনান আহমদ এবং সদস্য সচিব হিসেবে আছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, “আমরা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখব। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের মতো সংবেদনশীল জায়গায় রান্না কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত শেষে আমরা প্রতিবেদন জমা দেব।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অপারেশন থিয়েটার একটি অত্যন্ত সংরক্ষিত এলাকা। সেখানে রান্না করার বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
