More

    ভোলার মুজিবনগরে ক্লিনিক নেই, চিকিৎসক নেই, দুর্ভোগে দ্বীপবাসী

    অবশ্যই পরুন

    ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মুজিবনগরে বসবাসকারী হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্যখাতে চরম অবহেলার কারণে দ্বীপবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুজিবনগর দ্বীপে একটি ক্লিনিকও নেই।

    কোন ধরনের ওষুধ সরবরাহ নেই। ফলে সাধারণ রোগেও মানুষকে নির্ভর করতে হয় স্থানীয় ঝাড়ফুঁক বা অনভিজ্ঞ চিকিৎসার ওপর। দ্বীপটির মূল ভূখণ্ড থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নৌকাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া, নদীর স্রোত ও নৌযানের স্বল্পতার কারণে অনেক সময় রোগী পরিবহন সম্ভব হয় না। যদি রাতে কোন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে একেবারেই নদী পার হওয়া যায়না।

    এতে করে জরুরি রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্সও নেই। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। গর্ভকালীন পরীক্ষা, নিরাপদ প্রসব কিংবা নবজাতকের চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা নেই। অনেক নারী ঝুঁকি-পূর্ণভাবে ঘরেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি, ডায়রিয়া ও জ্বরের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    তথ্যমতে, মুজিবনগর ইউনিয়নের আয়তন ৮.৭৭ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বারবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও দ্বীপবাসী তা থেকে বঞ্চিত। একজন বাসিন্দা বলেন, অসুস্থ হলে আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া আর কোনো উপায় পাই না। স্থানীয় ফজল মাঝি বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগ থেকে মুজিবনগর ইউনিয়নে বসবাস করে আসছি।

    প্রথম থেকে এখনো অবধি একটি ক্লিনিকও সরকার স্থাপন করেনি। ‍মূল ভূখণ্ডে যেতে আমাদের নদী পার হতে হয়। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছি। কারণ কোন একজন ব্যক্তি গুরুত্বর অসুস্থ হলে তাৎক্ষনিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়না। বিবি কলছুম বলেন, ২০২৪ সালে হঠাৎ আমার প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায় কিন্তু সেদিন গভীর রাত হওয়াতে আমার পরিবারের লোকজন মূল ভূখণ্ডে আমাকে নিতে পারেনি।

    কারণ চরফ‌্যাশন সদর হাসপাতালে যেতে নদী পার হতে হয়। তবে সেইদিন রাতেই একজন ধাত্রী মহিলা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চা ডেলিভারি করাই।   দ্বীপবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং মুজিবনগরের মানুষও অন্য এলাকার মতো মৌলিক চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। তা না হলে স্বাস্থ্য-ঝুঁকি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ইউপি সদস্য মনির হাওলাদার বলেন, দ্বীপটিতে দ্রুত একজন স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা জরুরি।

    একই সঙ্গে একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানাই। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে মুজিবনগর দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি অবগত করবো।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    বরিশালে আটক চোরকে গাছের সাথে বেঁধে গণধোলাই

    বরিশালের গৌরনদীতে রাতের আঁধারে চুরি করতে এসে গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছে নাজমুল সরদার (২৪) নামের এক চোর। পরবর্তীতে উত্তেজিত...