মোঃ মাহিন খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ঝালকাঠির নলছিটিতে আয়োজিত বিএনপির দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও মঞ্চে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে প্রকাশ্যে সিনিয়র নেতাদের প্রতি অশোভন আচরণ ও গালাগালির অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বিব্রত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে নলছিটি মার্চেন্ট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টু, অধ্যাপক ডা. এস এম খালিদ মাহমুদ শাকিলসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে বক্তৃতা সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ অবস্থায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী বক্তব্য দিতে চাইলে মঞ্চে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বক্তব্যরত জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টুর হাত থেকে মাইক্রোফোন নেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে মঞ্চে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ধর্মীয় পরিবেশে আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতের অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের মতে, প্রকাশ্যে সিনিয়র নেতাদের প্রতি অশোভন আচরণ দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী বলেন, তিনি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। সভা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে নলছিটি থেকে একজন বক্তা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তিনি জানান, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলেও বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন বলেন, “আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ছিল বিনয় ও সহনশীলতার উদাহরণ। তার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতের মতো অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দুঃখজনক। এখনো সময় আছে—সবাইকে তার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।” তিনি ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।
ঘটনার পর বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দ্রুত সাংগঠনিক উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
