কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনিতে পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় রুমা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় তাকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রোববার দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্ত স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার চর পাঙ্গাশিয়া গ্রামের এসকান্দার বালীর মেয়ে রুমা আক্তারের সঙ্গে দক্ষিণ ঠেঙ্গামারা গ্রামের আজগর হাওলাদারের ছেলে মাসুদ হাওলাদারের দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মাসুদ হাওলাদার রুমার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। কিন্তু রুমার পরিবার নিম্নবিত্ত হওয়ায় ওই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মাসুদ ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মাসুদ হাওলাদার তার বাড়ির এক নারীর সঙ্গে গোপনে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রী রুমা আক্তার বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে রুমা আক্তার প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করলে তার মুখমণ্ডল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে চিকিৎসা শেষে নিরুপায় হয়ে রুমা আক্তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। ভুক্তভোগীর মামা সরোয়ার হোসেন বলেন, “পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় আমার ভাগ্নির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে মাসুদ হাওলাদার। একই সঙ্গে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছে।
আমরা তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি এবং আইনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী মাসুদ হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
