গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে কার্যত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থী নুরুল হক নূরের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ এলেও তাতে তেমন সাড়া দিচ্ছেন না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে জোট প্রার্থী, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে বৈঠকেই স্থানীয় নেতারা স্পষ্ট করে জানান, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পাশেই থাকবেন। জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি’র আংশিক জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও একটি বড় অংশ জোট প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন।
বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিএনপির নীতি নির্ধারকদের জানান আসন সমঝোতায় প্রার্থী হওয়া গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা গলাচিপা ও দশমিনা সফর করে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিলেও কার্যত তেমন ফল আসেনি।
বরং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করছেন। এমনকি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও প্রকাশ্যে শপথ নিয়ে হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করার জন্য মাঠে নেমেছেন। উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। তবে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে জোট শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে সমর্থন দেয় বিএনপি।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন হাসান মামুন। পরদিন ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। তবে বহিন্কারের আগেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর একাধিকবার তাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি অনড় রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১১ জানুয়ারি গলাচিপা ও ১২ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিশেষ দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্রি এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটনসহ শীর্ষ নেতারা।
সভা চলাকালীন দলীয় কার্যালয়ের বাইরে হাসান মামুনের পক্ষে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা, যা স্থানীয় বিএনপির অবস্থান আরও স্পষ্ট করে তোলে। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানতে হবে এবং সবাইকে জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে—এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তবে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ. সত্তার হাওলাদার বলেন, “তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্মতিতেই হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যত বড় চাপই আসুক, আমরা তার সঙ্গেই থাকব।
” দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু সিকদার বলেন, “দশমিনা ও গলাচিপার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে হাসান মামুনের পক্ষে রয়েছে। সব বাধা উপেক্ষা করে তাকেই বিজয়ী করব।” এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, “গত ৩৭ বছর ধরে দশমিনা-গলাচিপার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। তৃণমূল এবং জণগণের মতামতের ভিত্তিতেই তাদের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কোন অবস্থাতেই আমার নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
” তিনি আরও বলেন, “২৭ ডিসেম্বর আমি বিএনপির নির্বাহী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। এরপর ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমা দিয়েছি। তাই আমাকে বহিষ্কারের দাবি রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়া কিছু নয়।” আগামী ১২ জানুয়ারির ভোটে বিপুল ভোটে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
