More

    বরিশালে প্রতিদিন ৯টি ডিভোর্স, বিচ্ছেদের পথে বেশি হাঁটছেন নারীরা

    অবশ্যই পরুন

    বরিশালে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে বিবাহ বিচ্ছেদ। গত দুই বছরে রেজিস্ট্রেশনকৃত বিয়ের প্রায় অর্ধেকই বিচ্ছেদ হয়েছে। এই বিচ্ছেদের আবেদনে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই বেশি এগিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, সামাজিক অস্থিরতা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের অভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তুচ্ছ বিষয় এবং মন-মালিন্যের ঘটনায় প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে বিবাহবিচ্ছেদ। সম্পর্কের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে কেউ কেউ বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন। এই যেমন বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। সম্প্রতি স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুর বাড়ির স্বজনদের ওপর আস্থা হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে কীটনাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে তিনি বেঁচে ফেরেন।

    রফিকুল বলেন, পরিবার ও সংসার জীবনে আস্থা হারিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলাম। এদিকে ফেসবুকে প্রেম থেকে বিয়েও টিকছে কয়েক বছরও। বাড়ছে যৌতুক ও পরকীয়ার কারণে সংসার ভাঙার ঘটনাও। দুই বছর আগে ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে ঢাকার এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় সালমার, যা পরিবারের অমতে হয়েছিল। বিয়ের শুরুতে সব ঠিক থাকলেও, যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। এক বছরের মাথায় ভেঙে যায় সম্পর্ক। নারীরা জানান, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি এবং অনলাইন জুয়ার আসক্তির কারণে তারা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা তালাক নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।

    বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শহরে গড়ে প্রতিদিন নয়টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। গত দুই বছরে বরিশালে ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি রেজিস্ট্রি বিয়ের মধ্যে ভেঙেছে ৩ হাজার ৫টি সংসার। ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি রেজিস্ট্রি বিয়ের মধ্যে ভেঙেছে ৩ হাজার ৩৪৭টি সংসার। বিশ্লেষকরা বলছেন, ধৈর্যহীনতা এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বৃদ্ধি এই সংকট তীব্র করেছে।

    নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, বরিশাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মৃধা বলেন, বিচ্ছেদের যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আদালতে প্রতিনিয়ত এ সংক্রান্ত মামলা বেড়েছে। অধিকাংশ মামলার পিছনে অভিযোগ রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর। ব্লাস্ট বরিশালের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট শাহিদা বেগম বলেন, ধর্মীয় অনুশাসন না মেনে চলার কারণে বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে।

    এটি কমাতে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহসীন মিয়া বলেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিভোর্স বা তালাকের ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে রয়েছেন। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানে এটি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Ă măciucă material al zecelea persoanele dvs. poate ob?ine jucate performan?e on in 2025

    o incheiat anul 2025 cu ori oxigen repetiţie detaliata bun activita?ii, văzut?iind jocurile ce ori e jucate cel ciocan...