More

    পটুয়াখালী-৩ আসনে বহুমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত: প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে অনড় হাসান মামুন

    অবশ্যই পরুন

    গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। তবে ওই দিনও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি হাসান মামুন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে জোট রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

    আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। কিন্তু নির্বাচনি এলাকায় তুমুল জনপ্রিয় হাসান মামুন প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় জোট প্রার্থী নুর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা স্থানীয়দের।
    ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, ডাকসু ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নুরুল হক নুর দেশজুড়ে পরিচিতি পেলেও, পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে হাসান মামুনের।

    নুরকে জোটের প্রার্থী ঘোষণার পর দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার মূলধারার সিংহভাগ বিএনপির নেতাকর্মী প্রকাশ্যে হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন। এমনকি দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপি এবং গলাচিপা পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পরও এসব নেতাকর্মী তাঁর সমর্থনে অনড় রয়েছেন। যদিও বিএনপির একাংশ ও সাবেক কিছু নেতা-কর্মী নুরের পক্ষে মাঠে সক্রিয় আছেন।

    এদিকে, গত বৃহস্পতিবার দশমিনায় এক বক্তব্যে নুরুল হক নুর বলেন, তিনি কাউকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে চান।

    প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করার বিষয়ে হাসান মামুন বলেন, “আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করিনি। এলাকার সাধারণ মানুষের চাপের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ভোটগ্রহণ শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। আমার বিশ্বাস, জালিম ও জুলুমকারীদের প্রত্যাখ্যান করে মানুষ নিরাপদ দশমিনা-গলাচিপা গড়তে আমাকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করবেন।”

    এর আগে নুরকে অসহযোগিতার অভিযোগে গত ১৭ জানুয়ারি পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপি এবং পরে গলাচিপা পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    এ ছাড়া এই আসনে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমীর ও বরিশাল বিভাগীয় অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মু. শাহ আলম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুব আন্দোলনের প্রচার ও প্রচারণা সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক।

    সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি ও বহুমুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

     

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    বরিশাল-১(গৌরনদী – আগৈলঝাড়া) বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী পেলেন ফুটবল প্রতীক

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর মাঝে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে...