মোঃ মাহিন খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি–১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেছেন, তিনি কাবিখার টাকা ভাগাভাগি, চাঁদাবাজদের আশ্রয় বা সন্ত্রাসী রাজনীতি করতে নির্বাচনে আসেননি। বরং দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও অপরাধমুক্ত একটি জনপদ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমি চাঁদাবাজের সঙ্গে রাজনীতি করতে আসিনি, মাস্তানদের নিয়ে চলতে আসিনি, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করতে আসিনি। আমি এসেছি অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে রাজাপুর–কাঁঠালিয়া হবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য একটি নিরাপদ জনপদ। এখানে থাকবে না মাদক ব্যবসায়ী, থাকবে না সন্ত্রাস ও দুর্নীতি। বিএনপির আদর্শে একটি সন্ত্রাসমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত ও উন্নয়নমুখী আধুনিক বাংলাদেশ গড়াই হবে তার একমাত্র লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। একইভাবে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আরেকটি নতুন ইতিহাস রচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তারাই আজ আমাদের প্রতিপক্ষ। বিপুল ভোটে তাদের পরাজিত করেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। বাঙালি জাতি কখনো পরাজয় মেনে নেয়নি।”
রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করা হবে, ঠিকাদারি কাজে কমিশন বাণিজ্য থাকবে না এবং মাদকের আগ্রাসন রুখে দেওয়া হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্র পাহারায় থাকতে হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গণনা শেষ করে ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের মধ্য দিয়ে রাজাপুর–কাঁঠালিয়ায় চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নতুন সূচনা হবে।
রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্ন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হক নান্টু, শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তালুকদার শামীম তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজাদুর রহমান, জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব সোহাগ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পারভেজ ও সদস্য সচিব সৈয়দ নাজমুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
