কালকিনি-ডাসার (মাদারীপুর) প্রতিনিধিঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। তবে মাদারীপুর -৩ ( কালকিনি, ডাসার ও মাদারীপুর সদরের একাংশ) সংসদীয় আসনের কালকিনি উপজেলায় মোট ৭২ টি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা গেলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কালকিনি উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনের সহিংসতার পরিসংখ্যান ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে উপজেলার ৭২ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল আলম জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এলাকা ও ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন স্থানে পুলিশের দৃশ্যমান টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, RAB, আনসার ব্যাটালিয়ন সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে নিয়োজিতসহ পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। ৭২ টি ভোটকেন্দ্রের প্রায় প্রত্যেকটিকেই আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট (ফেজ-২)’।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, কালকিনি উপজেলায় মোট ৭২ টি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ পুলিশের বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা। কেন্দ্র দখল, জালভোট ও যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কালকিনি উপজেলার ৭২ টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা সংশয় ও উদ্বেগ থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের ব্যাপারে জানতে চাইলে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন বলেন , ‘নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেহেতু ৭২ টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ তাই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
