More

    ইসলামের দৃষ্টিতে ‘ভালোবাসা দিবস’

    অবশ্যই পরুন

    বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে হরেক রকম দিবস উদযাপন হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ‘ভালোবাসা দিবস’। প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি আসলে এক শ্রেণির লোকজন এ দিবস উদযাপন করে। তবে ইসলামে এই দিবসের কোনো ভিত্তি নেই।

    ভ্যালেন্টাইনস ডে-এর উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ইতিহাসটি হচ্ছে ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের। তিনি ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপি এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী।

    সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে, ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দুজন প্রাণ খুলে কথা বলত। একসময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস পালিত হতে থাকে। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ ফেব্রুয়ারি-২০১৪)

    প্রচলিত ভালোবাসা দিবসে যা হয়

    এই দিনে অনেক তরুণ-তরুণী ভালোবাসা আদান-প্রদানের নামে সাক্ষাৎ, কথোপকথন, মদ্যপান, কনসার্ট এবং যাবতীয় অবৈধ মেলামেশা করে থাকেন। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, টিএসসি প্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় এসব নোংরা চিত্র দেখা যায়।

    ভালোবাসা দিবসের সমস্যা ও ইসলামি বিধান

    ১. বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করা হারাম

    হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবু দাউদ : ৪০৩১) । তাই ইমানদারগণ ভালোবাসা দিবস পালন করতে পারবে না, কারণ তা খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি।

    ২. অবৈধ সম্পর্ক ও ব্যভিচারের প্রসার

    ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেও না। নিশ্চয়ই এটা একটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ’ (সুরা আল ইসরা : ৩২)। ১৪ ফেব্রুয়ারি অধিকাংশ মানুষ অবৈধ প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক ও হারাম কাজের দিকে ধাবিত হয়।

    ৩. ফিতনার (পাপাচার) কারণ

    এই দিনে তরুণ-তরুণীরা বেহায়াপনা ও অনৈতিক কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

    ৪. অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়

    ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই’ (সুরা আল ইসরা : ২৭)। ভালোবাসা দিবসে ফুল, কার্ড, উপহার ও ডিনারের নামে প্রচুর অর্থ অপচয় হয়, যা ইসলাম সমর্থন করে না।

    ৫. ইসলামিক সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষতি

    মুসলমানদের মধ্যে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ নষ্ট হয়।

    তাই প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য এ দিবস পালন করা থেকে বিরত থাকা এবং এর অশ্লীলতা থেকে নিজেকে হেফাজত করা ঈমানি দ্বায়িত্ব। এ দিনকে কেন্দ্র করে যা কিছু ঘটে থাকে তাতে নিজেকে সম্পৃক্ত করা ইমান হরণের কারণ হতে পারে।

    ইসলামে ভালোবাসা দিবসের বিকল্প কী?

    ১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য যে কোনো দিন উপহার দেওয়া যেতে পারে।

    ২. মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের ভালোবাসা ও দয়া দেখানো উচিত।

    ৩. আল্লাহ ও রাসুলের ভালোবাসার প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।

    ৪. হারাম সম্পর্কের পরিবর্তে ইসলামের বিধান অনুসারে বিবাহের মাধ্যমে পবিত্র সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত।

     

    সূত্র :  কালবেলা

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Be involved in some lighter moments challenges and you can objectives in return for advantages

    If this is a gaming webpages for your https://hrvatska-lutrija-hu.com/ requirements, strike the on the-page banners and get been now....