মিজানুর রহমান, গলাচিপা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ জেলে পরিবারের সদস্যদের এবং এক আহত জেলেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর, গলাচিপা-এর উদ্যোগে নিহত ও নিখোঁজ ৬ জন জেলে পরিবারের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এবং আহত ১ জন জেলেকে ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। এভাবে মোট ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর নিজ হাতে ভুক্তভোগীদের মাঝে এই আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যু/অক্ষম সনদ ও স্থানীয় থানার জিডি অনুযায়ী—
মোঃ আলাউদ্দিন মিয়া (পিতা: শাহাদত আলী), গ্রাম: বাঁমতলা, ইউনিয়ন: পানপট্টি — স্ট্রোক করে মৃত্যু।
আনেছ হাওলাদার (পিতা: বারেক হাওলাদার), গ্রাম: তুলাতলী, ইউনিয়ন: পানপট্টি — ট্রলারের মেশিনে দুর্ঘটনায় বাম হাত স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন। মোঃ রাকিব মিয়া (পিতা: শাহজাহান), গ্রাম: উত্তর পুপ্তের হাওলা, ইউনিয়ন: পানপট্টি — ট্রলারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু।ইব্রাহীম (পিতা: সৈয়দ আহম্মেদ), গ্রাম: হোগল বুনিয়া, ইউনিয়ন: গজালিয়া — ট্রলারে প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু।
মোঃ কালাম মৃধা (পিতা: মৃত খালেক মৃধা), গ্রাম: গজালিয়া — ঘূর্ণিঝড়ে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ; পরবর্তীতে লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার।
মোঃ রিয়াজ (পিতা: রাজ্জাক হাওলাদার), গ্রাম: উত্তর চর বিশ্বাস — ট্রলারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু।
মোঃ সাইফুল (পিতা: সোহরাব হোসেন), গ্রাম: উত্তর চরখালী, গলাচিপা সদর — বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ঘূর্ণিঝড়ে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ।
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জেলেদের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি লাঘবে সরকার নিয়মিতভাবে এই ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
