রঙ, আবির আর ভজন-কীর্তনের সুরে মুখর হয়ে উঠেছে বরিশাল। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে নগরীর মন্দিরে মন্দিরে ছিলো পূজা-অর্চনা, আর দিনভর চলে রঙ খেলার আয়োজন। সকাল থেকেই বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মন্দিরে পূজার আয়োজন করা হয়। ভক্তরা ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে রাধা-কৃষ্ণের আরাধনায় অংশ নেন।
অনেকেই নিজ নিজ বাসভবনেও ভগবানের পূজা করে দিনটি পালন করেন। পূজা শেষে শুরু হয় আবির খেলা—ছোট-বড় সবাই রঙে রঙিন হয়ে ওঠেন। দোল উৎসব উপলক্ষ্যে সবচেয়ে বড় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী শংকর মঠ প্রাঙ্গণে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর মঠ চত্বরে তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। আবিরে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
ভজন-কীর্তনের পাশাপাশি সঙ্গীতের তালে উৎসবের আনন্দ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উৎসবে অংশ নেয়া কয়েকজন তরুণ-তরুণী জানান, শৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে এমন বৃহৎ আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ আয়োজন ধারাবাহিকভাবে আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিনে ভক্তরা রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে আবির অর্পণ করেন এবং ভজন-কীর্তনের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে রঙ খেলেন।
এ পূর্ণিমা তিথি একই সঙ্গে গৌরপূর্ণিমা নামেও পরিচিত, কারণ এদিনই বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক চৈতন্য মহাপ্রভু-এর আবির্ভাব তিথি হিসেবে পালিত হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী দোল পূর্ণিমা উদযাপন সম্পন্ন হয়।
