পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ও ডাকুয়া এ দুই ইউনিয়নের মানুষের সেতু বন্ধনের সেতুটির চরম বেহাল দশা। যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ দুই ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ, দুর্দশা এখন চরমে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি পারাপার হতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গজালিয়া বাজার সংলগ্ন গজালিয়া খালের উপর প্রায় ২৪০ ফুট স্লিপার আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করে প্রায় ২৫ বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছিলো। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বালু বোঝাই নৌ পরিবহন বাল্কহেড জাহাজের ধ্বাক্কায় অনেকটা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিজের অনেক স্লিপার ভেঙে গেছে। এলাকাবাসী ভেঙে যাওয়া স্থানে বাঁশ ও কাঠের পাটাতন বানিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপারে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় জনসাধারণ জানান, ঝুঁকি পূর্ণ ব্রীজ টি দিয়ে পারাপারের সময় পরে গিয়ে অনেক দূর্ঘটনার শিকারে পরতে হয়েছে, স্কুলগামী অনেক শিশু বই-খাতা নিয়ে খালের মধ্যে পড়ে যায়। জীবনহানি না ঘটলেও অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়েছে। গজালিয়া বাজারে অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি হাসপাতাল, একটি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে।
পাশ্ববর্তী ডাকুয়া ইউনিয়নের ৪ গ্রামের শতাধিক শিশু প্রাইমারি স্কুল ও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। প্রতি সপ্তাহে রোববার ও বুধবার গজালিয়া হাট বসে। ওই এলাকার সমাজসেবক আলাউদ্দিন বিশ্বাস জানান, হাটের দিনগুলোতে এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীদের এ ব্রিজ দিয়ে পারাপারে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ব্রিজটি দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ৪ মার্চ বুধবার ২০২৬ইং গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, নির্মাণ কাজের মেয়াদ অনেক পূর্বেই শেষ হয়ে গিয়েছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালীর কারনে দীর্ঘ বছর প্রায় ৬ কোটি টাকার ব্যায়ে নির্মিত ব্রীজের কাজটি বন্ধ রয়েছে। ইতি মধ্যে ঠিকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্কিং ওয়ার্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে কবে নাগাত হবে ? তা সুনিশ্চিত করে বলতে পারেননি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। দুই ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজটির সংস্কার অথবা পুনঃনির্মাণে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী দ্রুতই শিগগিরই ব্যবস্থা নিয়ে জনসাধারণের দুর্ভোগ কমিয়ে আনবেন এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।
