ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদসহ জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহত হাদির পরিবার। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিহত ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেন, ফয়সাল একজন শুটার এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে- এতে আমরা কিছুটা আশাবাদী যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।
তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল, কে তাকে নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ জুগিয়েছে এবং কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের হতে সহায়তা করেছে-এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে সামনে আনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এই হত্যার সঙ্গে জড়িত পুরো গ্যাংকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু ফয়সালকে দায়ী করে অন্যদের আড়াল করা হলে তা কখনোই ন্যায়বিচার হবে না।
ফয়সালকে বলির পাঁঠা বানিয়ে মূল পরিকল্পনাকারীদের রক্ষা করা যাবে না। হাদির পরিবার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা।
এর আগে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
পরে তার মরদেহ দেশে আনা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
