ঈদ সালামিতে কে না চায় নতুন টাকা। আর সেজন্যই নতুন টাকা খুঁজছে সাধারণ মানুষ। ব্যাংকে গেলে নতুন টাকার দেখা না মিললেও ঠিকই পথের ধারের ফুটপাতে দোকানিদের কাছে এই টাকা মিলছে অহরহ। নগরীর বিউটি হলের সামনের ফুটপাতে বসেছে নতুন টাকার অস্থায়ী দোকান। এখানে ১০০ টাকা ও ৫ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল বেশি বিক্রি হচ্ছে।
১০০ টাকার একটি বান্ডিল কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৪০০ টাকা, আর ৫ টাকার একটি বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। দাম বেশি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহের কোনো ঘাটতি নেই। বিক্রেতারা জানান, বরিশালে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ১০০ ও ৫ টাকার নতুন নোটের। অন্য মূল্যমানের নতুন টাকা তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এই দুই ধরনের নোট নিয়েই চলছে জমজমাট ব্যবসা!
ফুটপাতে নতুন টাকা বিক্রি করছেন হৃদয় ইসলাম। তিনি বলেন, এই ব্যবসা সারা বছরই থাকে, তবে খুব বেশি না। ঈদের সময় এটার আলাদা একটা চাহিদা তৈরি হয়। তখন আমরা একটু বেশি করে টাকা এনে রাখি, আর বিক্রিও ভালো হয়। নতুন টাকা কোথা থেকে সংগ্রহ করেন এমন প্রশ্নে বিক্রেতা আলম বলেন, আমরা বরিশাল থেকে টাকা পাই না। ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে আনতে হয়। সেখান থেকে আনতে খরচ হয়, তাই কিছু লাভ রেখে বিক্রি করি।
ঈদের সময় মানুষ নতুন টাকা নিতেই চায়, তাই বিক্রি বাড়ে। আরেক বিক্রেতা সাইফুল হক জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই বিক্রি বাড়তে শুরু করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষ আসে। কেউ এক বান্ডিল নেয়, কেউ দুই-তিন বান্ডিল। বিশেষ করে যাদের পরিবার বড়, তারা বেশি করে কিনে।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে নতুন টাকা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা ফুটপাতের এসব দোকানের ওপর নির্ভর করছেন। নতুন টাকা কিনতে আসা নাসরিন আক্তার বলেন, ব্যাংকে অনেক চেষ্টা করেও নতুন টাকা পাইনি। বাচ্চাদের সালামি দেওয়ার জন্য নতুন নোট দরকার। তাই বেশি দামে হলেও এখান থেকেই কিনতে হচ্ছে।
