দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আগত পর্যটকরা। সৈকতের মূল পয়েন্টে বসার বেঞ্চের সামনেই ভ্রাম্যমাণ দোকান, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল ও দলবদ্ধ ফুটবল খেলার কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু সৈকতেই নয়, ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের সামনেই পার্ক করা হয় মোটরসাইকেল। এই অব্যবস্থাপনার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ট্যুরিস্ট পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দুষছেন আগত পর্যটক ও স্থানীয়রা।
ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনও কুয়াকাটায় ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। কিন্তু সৈকতে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না তারা। বেঞ্চে বসে সমুদ্র উপভোগ করতে গিয়ে সামনে পড়ছে আচার, চটপটি, চা ও কুলফি মালাইয়ের ভ্রাম্যমাণ দোকানের সারি। ফলে সমুদ্রের সৌন্দর্যের পরিবর্তে দোকানের পেছনের অংশই চোখে পড়ছে বেশি। অন্যদিকে শিশুদের হাতে ধরে হাঁটতে হয়, নয়তো যে কোনো সময় বেপরোয়া মোটরসাইকেল কিংবা অটোভ্যানের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
পর্যটকদের অভিযোগ, সৈকতের বালুচরে হাঁটার সময় হঠাৎ করেই পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে চলে যাচ্ছে পর্যটকদের নিয়ে আসা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও ভ্যান। এতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে সৈকতের বড় অংশজুড়ে পর্যটকদের ফুটবল খেলার কারণে চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
পর্যটকদের অভিযোগ, এত সমস্যার পরও ট্যুরিস্ট পুলিশ মাঝে মাঝে শুধু মাইকিং করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করছে। সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে দুই দিকে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে পর্যটকে ভরপুর থাকলেও চোখে পড়ে না পুলিশের টহল।
ময়মনসিংহ থেকে আসা পর্যটক অপর্ণা বলেন, শান্তিতে সমুদ্র দেখার জন্য বেঞ্চে বসেছিলাম। কিন্তু সামনে দোকানের ঝুপড়ি আর মানুষের ভিড়ে সমুদ্রই দেখা যায় না। তার ওপর হঠাৎ পাশ দিয়ে মোটরসাইকেল চলে যায়। ফুটবল এসে গায়ে লাগার ভয়ও থাকে। সৈকতে শৃঙ্খলা থাকাটা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সৈকতে শিশুর হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য এলাম। কিন্তু সৈকতে এখন যে পরিমাণ মোটরসাকেল চলাচল করে, তাতে নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় আছি। বাচ্চাকে ছেড়ে দেওয়া তো দূরের কথা।
পরিবার নিয়ে মোটরসাইকেলে সৈকতের জিরো পয়েন্টে ঘোরাঘুরি করছিলেন মো. বেল্লাল নামের বরগুনার একজন পর্যটক। সৈকতে মোটরসাইকেল নিয়ে কেন নেমেছেন– জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো জানি না যে সৈকতে মোটরসাইকেল নিয়ে নামা নিষেধ। আর কেউ নিষেধও করেনি, পুলিশও দেখছি না। তিনি বলেন, অনেকেই তো বাইক নিয়ে সৈকতে নামছেন, তাই আমিও নেমেছি।
সৈকতের ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা ক্রেতা টানতে উচ্চ শব্দ ব্যবহার করছেন। এক দোকানি বলেন, বিক্রি বাড়াতে শব্দ ব্যবহার করতে হয়। উচ্চ শব্দের বক্স না চালালে ক্রেতারা আসেন না।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, সৈকতের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। বেঞ্চের সামনে দোকান, মোটরসাইকেল চলাচল ও ফুটবল খেলার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশকে সৈকতে কোথাও দেখা যায না। তারা শুধু তাদের বক্সে বসে থাকেন। তাদের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। না হলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেই দায় ট্যুরিস্ট পুলিশকে নিতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন ইনচার্জ তাপস চন্দ্র রায় বলেন, সৈকতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধে আমরা মাইকিং করছি। এর পরও অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, সৈকতে মোটরসাইকেল চালকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। ইতোপূর্বে এক শিশুর পায়ে মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা গতকাল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সৈকতে প্রাথমিক অভিযান চালিয়েছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
