যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে, যাতে একটি শান্তি চুক্তি করা যায়। তিনি অবশ্য এ গুরুত্বপূর্ণ পানিপথটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটনের বেশ কয়েকটি ভবনের নাম নিজের নামে পরিবর্তন করেছেন, তিনি তার মন্তব্যকে একটি ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেন। তবে তিনি আরো বলেন, ‘আমার ক্ষেত্রে কোনো কিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে না।’
তেহরানের অস্বীকার করা সত্ত্বেও দেশটি একটি চুক্তিতে আসতে প্রস্তুত বলে নিজের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ৭৯ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মাসব্যাপী এই সঙ্ঘাতের অবসানের জন্য আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তেহরানের নেতৃত্ব, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং পারমাণবিক কর্মসূচি- সবই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মায়ামিতে সৌদি-সমর্থিত এফআইআই প্রায়োরিটি ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন আলোচনা করছি এবং আমরা যদি কিছু করতে পারি তবে তা দারুণ হবে, তবে তাদের হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে।’
গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভেনিজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, সেভাবে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেয়াও একটি ‘বিকল্প’, যদিও যুদ্ধ এখনো চলছে। সঙ্ঘাতের আগে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ছিল।
সঙ্ঘাতের পর থেকে এ পানিপথটি স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল শুক্রবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য স্থায়ী ‘টোলিং সিস্টেম’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করে।
