More

    সাপে কাটে গ্রামে আর চিকিৎসা হয় শহরে, প্রাণ যায় পথে

    অবশ্যই পরুন

    দেশের বেশিরভাগ সাপে কাটার ঘটনা গ্রামাঞ্চলে ঘটলেও উপজেলা পর্যায়ে নেই কোনো চিকিৎসা সেবা। যে কারণে সাপে কাটা অধিকাংশ রোগীই জেলা শহরে নেওয়ার পথে মৃত্যু হচ্ছে। যুগের পর যুগ ধরে এই অব্যবস্থাপনা চলে আসলেও কোনো সরকারের আমলেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। সূত্রমতে, প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো গ্রামাঞ্চলে বিষধর সাপে কাটার ঘটনা ঘটছে।

    গ্রামে সাপে কাটার কোনো ঘটনা ঘটলেই প্রথমেই ডাক পড়ে ওঝার। ওঝার মন্ত্রে যখন কাজ হয় না তখনই ছুটে যান উপজেলা হাসপাতালে, সেখানে গিয়ে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে যেতে হয় জেলা শহরের হাসপাতালে। আর জেলা শহরে যাওয়ার আগেই ঝরে যাচ্ছে সাপে কাটা রোগীর প্রাণ। আর এভাবে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসা না পেয়ে অন্তত পাঁচটি সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গৌরনদী পৌরসভার বানিয়াশুরি গ্রামের মাজেদা বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূকে বিষধর সাপে কামড় দেয়।

    দেড়ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় জেলা শহরে নেওয়ার পথে মাজেদার মৃত্যু হয়। ২০২০ সালের মে মাসে পৌরসভার দিয়াশুর গ্রামের শাওন চৌকিদার (২১) নামের এক কলেজছাত্রকে বিষধর সাপে কামড় দেয়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যায় শাওন। একই বছরে বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামের ফারুক দেওয়ান, সরিকল ইউনিয়নের সাহাজিরা গ্রামের সাপুড়ে রেজাউল করিম, ২০২৩ সালে উপজেলার চন্দ্রহার গ্রামের রাজু সরদারকে বিষধর সাপে কামড় দেওয়ার পর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

    নিহতদের স্বজনদের দাবি, উপজেলা হাসপাতালে বিষধর সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু থাকলে বিনা চিকিৎসায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু হতো না। উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৌকির হোসেন জানান, ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৬০টি সাপে কাটা রোগীকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরমধ্যে শুধুমাত্র বিষধর সাপে কাটা রোগীদের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা যাতে উপজেলা হাসপাতালেগুলোতে হয় সেই নির্দেশনা আগে থেকেই দেওয়া হয়েছে। তবে এন্টিভেনম সংকট রয়েছে। এন্টিভেনম যাতে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয় সেই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Report on better local casino incentives about 2015

    The champ was provided having a beneficial $eight,one hundred thousand traveling coupon to use to their Mexican travel nevertheless...