বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচার হামলায় ভাতিজার নিহতের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত দেড়টার সময় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে শনিবার (২৮মার্চ) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার লোসনাবাদ মুনির উদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইদুল ইসলাম সজিব (২৫) উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোসনাবাদ গ্রামের আবুল হোসেন খানের খানের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- একই বাড়ির মৃত রুস্তম আলী খানের পুত্র মিলন খান (৪০), জাফর খান (৪৭), নাসির খান (৪৩), জালাল খান (৫৫), মোকসেদ খানের পুত্র লিটন খান (৪০), রিপন খান (৪২) ও মিলন খানের স্ত্রী বিথী বেগম (৩৫)। এদিকে এ ঘটনায় আরও ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- আবুল হোসেন খান (৬৫), তার স্ত্রী পিয়ারা বেগম (৫৫), হাসান আলী খান (৫৮) ও আয়শা বেগম (৫০)। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামে সাইদুল ইসলাম তার বসতবাড়ী সংলগ্ন রেকর্ডীয় জমিতে একটি দোকান ঘর উত্তোলনের কাজ শুরু করেন। এ সময় সাইদুল ইসলামের চাচাতো চাচা মিলন খান ৮ থেকে ১০ জন লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়ে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঠা দিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এ সময় হামলায় সাইদুল ইসলাম সজীব রক্তাক্ত জখম হলে প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইদুল ইসলাম মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে রোববার (২৯ মার্চ) থানায় ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা জানান, ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
