More

    ভোলায় বরখাস্ত আ.লীগ নেতার নিয়োগে বিতর্ক, ইউএনও শোকজ

    অবশ্যই পরুন

    ভোলার মনপুরা উপজেলায় বরখাস্ত থাকা এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছাকে শোকজ করেছে আদালত। একই সঙ্গে বিতর্কিত নিয়োগ আদেশ স্থগিত করে বিবাদীদের পাঁচ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ছমেদপুর বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাময়িক বরখাস্ত থাকা শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পরই অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ ইউএনও মো. আবু মুছা আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়ে গিয়ে কমিটির অন্য সদস্যদের অবহিত না করে এবং কোনো প্রকার রেজুলেশন ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে এ নিয়োগের আদেশ জারি করেন। এতে কমিটির সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন।

    মামলার সূত্রে আরও জানা যায়, ৮ এপ্রিল ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের সংবর্ধনা ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শিক্ষক মো. মাইনউদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

    এদিকে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামীলীগ নেতা মো. মাইনউদ্দিন ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন ও অনিয়মের মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নম্বরপত্রে কাটাছেঁড়া এবং দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তার নিয়োগ বৈধতা নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার, ভোলার তত্ত্বাবধানে তদন্ত চলছে।

    এ অবস্থায় বরখাস্ত ও তদন্তাধীন একজন ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন, অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    অন্যদিকে, মনপুরা সিভিল জজ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নিয়োগ আদেশ স্থগিত করেন এবং ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টদের পাঁচ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।

    এ বিষয়ে ইউএনও মো. আবু মুছার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    তবে জেলা প্রশাসক ড. মো. শামিম জামান জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় জবাব দাখিল করা হবে।

    এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও বিধি-বিধান নিশ্চিত করা জরুরি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    তাজ পরিবহনের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত

    ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা...