পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বিরল প্রজাতির একটি মৃত সামুদ্রিক কচ্ছপ ভেসে এসেছে। শুক্রবার দুপুরে জোয়ারের সময় সৈকতের মাঝি পয়েন্ট এলাকায় কচ্ছপটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সদস্য জলিলুর রহমান কচ্ছপটি প্রথম দেখতে পান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের খবর দেন। উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটির ওজন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কেজি।
পরিবেশবাদীদের মতে, ২০২৬ সালে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসা মৃত কচ্ছপগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় এবং আকারে বেশ বড়। এর আগে গত ১২ মার্চ আরও একটি মৃত কচ্ছপ ভেসে এসেছিল। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় কচ্ছপটির দেহে পচন ধরেছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনায় নিয়ে পৌরসভা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে এটি মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সহসাংগঠনিক সম্পাদক কে এম বাচ্চু জানান, কচ্ছপটি বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত অলিভ রিডলি জাতের। এটি একটি পুরুষ কচ্ছপ। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়াকাটা উপকূলে মৃত কচ্ছপ ভেসে আসার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক। এর পেছনে পানিদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য কিংবা জেলেদের জালে আটকে পড়া অন্যতম কারণ হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘সামুদ্রিক প্রাণীর একের পর এক মৃত্যু আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। কচ্ছপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; এদের সংখ্যা কমে গেলে পুরো খাদ্যচক্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এ বিষয়ে সমকালের সঙ্গে কথা হয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজিব সরকারের।
তিনি মনে করেন, কচ্ছপ মৃত্যুর পেছনে প্রধানত চারটি কারণ দায়ী। প্রথমত, ট্রলার ও জেলেদের জালে আটকে পড়া কচ্ছপগুলো দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় শ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। দ্বিতীয়ত, সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্যকে জেলিফিশ ভেবে খেয়ে ফেলায় তাদের অন্ত্রে ব্লক তৈরি হয় অথবা বিষক্রিয়ায় মৃত্যু ঘটে। তৃতীয়ত, দ্রুতগামী স্পিডবোট বা ট্রলারের মতো নৌযানের প্রবল আঘাতে কচ্ছপের শক্ত খোলস (Shell) ভেঙে প্রাণহানি ঘটে।
সব শেষে, সমুদ্রে মিশে যাওয়া শিল্প বর্জ্য, তেল এবং বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পানির গুণমান নষ্ট করে কচ্ছপের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো ও সামুদ্রিক দূষণ কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ড. রাজিব সরকার।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। অনেক সময় জেলেদের জালে আটকা পড়ে বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কচ্ছপ মারা যায়। দ্রুত কচ্ছপটি মাটিচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
