More

    উজিরপুরে ইউপি সদস্যের দাপট: ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ পরিচয়ে অনিয়মের পাহাড়, তদন্তে প্রশাসন!

    অবশ্যই পরুন

     উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ২নং হারতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও জাতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি।

    অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার বৈধতা ছাড়াই নিজেকে “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান” পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে আসছেন তিনি। এই ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে ইউনিয়নজুড়ে চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও তার হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতেই শেষ নয়—এসব অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের নজরে আনা হলে বরিশাল জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সরকারি কমিশনার আব্দুল্লাহ হেল মাফী স্বাক্ষরিত আদেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    গঠিত কমিটিতে রয়েছেন—উজিরপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব মর্যাদা) দীনেশ সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “একজন ইউপি সদস্যকে কখনোই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

    এ ধরনের পরিচয় প্রদান সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।” তিনি আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা জানান, তদন্ত কমিটির চিঠি পাওয়া গেছে এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

    তদন্ত কমিটির সদস্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল বলেন, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে, যাতে কোনো প্রকার প্রভাব ছাড়াই সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করা যায়। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের একটি অডিও কল রেকর্ড সম্প্রতি জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই অডিওতে অভিযোগকারীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ও হুমকিমূলক বক্তব্য শোনা গেছে বলে জানা যায়।

    এদিকে, উপজেলা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ও কার্যকর হয় এবং আদৌ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা, সেটিই দেখার অপেক্ষায় উজিরপুরবাসী।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    বানারীপাড়ায় কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটায় যুবলীগ কর্মীকে হত্যা চেষ্টা

    রাহাদ সুমন, বরিশাল: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামে মাসুম বেপারী নামের এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটায়...