ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় চোরাচালান চক্রের গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার (৫এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জনতা বাজার মাছ ঘাট এলাকায় সম্প্রতি পাচারকারী দলের মূল হোতা সিরাজ পালোয়ান,খলিল মাঝি,সিরাজ সেকান্তর মাঝি সহ কয়েকজনের একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে তারা অংশ নেন, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে অবৈধভাবে পণ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
সুত্র আরো জানায় চট্টগ্রাম থেকে আগত একটি চক্র মনপুরার স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে সমন্বয় করে মাছ ধরার ট্রলার (ফিশিং বোট) ব্যবহার করে এই পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে খলিল মাঝি, শাহাবুদ্দিন সেরাং ও শরীফ সেরাং নামে কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চক্রটি প্রথমে মনপুরা থেকে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করে এবং পরে চট্টগ্রাম থেকে আনা পণ্য যুক্ত করে সেগুলো ট্রলারের মাধ্যমে মিয়ানমারে পাচার করে থাকে। তারা মেঘনা নদীর চরপিয়াল ও দক্ষিণ কালকিনি এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজস্ব ট্রলার ব্যবহার করে এই পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এলাকাবাসী আরো জানান দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র সক্রিয় থাকলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের আশঙ্কা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যকে প্রভাবিত করে বা ‘ম্যানেজ’ করে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
