কলাপাড়া প্রতিনিধি : ১৪ ফুটের বিশাল রুপালি ইলিশ। এছাড়া তৈরি করা হচ্ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শান্তির পায়রা, বক ও পেঁচা। এর পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে শৈশবের হারিয়ে যাওয়া শতশত মুখোশ।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দীর্ঘ ৩৩ বছর পর বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় থাকবে বাঙ্গালী ঐতিহ্যের এ বাহকগুলো। কলাপাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনু এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজনে উদ্যোগ নেয় । আয়োজক কমিটির সভাপতি বলেন, বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই তাদের এই আয়োজন।
বাংলা ১৪০০ সালের পর পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সংগঠন রংধনুর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা। বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহকগুলোকে সামনে এনে শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ করা হয়েছে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী কলাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ইলিশ মাছ কে। ১৪ ফুটের ইলিশ মাছে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের রং তুলির কাজ।
বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রায় আরও থাকছে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শান্তির প্রতীক পায়রা, বিলুপ্ত প্রজাতির পেঁচা ও বক। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা ছাড়াও চারুকলার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এ বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে।
এ উদযাপন বাস্তবায়নে এখন চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। কেউ কেউ দিচ্ছে শেষ মুহূর্তে রঙের আঁচর, কেউবা তৈরি করছো মুখোশ। রয়েছে বাঙালির কৃষকদের ঐতিহ্যের জোংরা, মাছ ধরার নানা প্রাচীন সামগ্রী।
বৈশাখী শোভাযাত্রা আয়োজনের ব্যস্ত শিল্পী ও শিক্ষক মোস্তফা জামান সুজন বলেন, তারা মূলত বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যকে সামনে নিয়ে আসতে চাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের কাছে। এজন্যই তারা কলাপাড়ার হারিয়ে যাওয় ইতিহাসকে সামনে নিয়ে এসেছেন।
সেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনু’র সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোশারফ কল্লোল বলেন, গত তিন দশকে কয়েকটি প্রজন্মের কাছে বৈশাখ উদযাপন মানে নতুন কাপড় পরিধান করা, ঘোরাঘুরি ও বাংলা গানের আসর। বাঙালী সংস্কৃতির ঐতিহাস তাদের কাছে অজানা। কলাপাড়ার ব্রান্ড সামুদ্রিক ইলিশকে আরও পরিচিত করতে ইলিশের পাশাপাশি শোভাযাত্রায় থাকছে লোকজ হারিয়ে যাওয়া শিল্পগুলো।
সরকারিভাবে কলাপাড়ায় সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনু শোভাযাত্রার সামনে নিয়ে আসতে চাচ্ছে এই ঐতিহ্য গুলো।
সংগঠনের সভাপতি হুমায়ন কবির জুয়েল সিকদার বলেন, কলাপাড়ায় গত ৩৩ বছরে এমন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়নি। তারা এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মূলত নতুন প্রজন্মকে বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। শোভযাত্রার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন লোকজ খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। এছাড়া শোভযাত্রার মধ্যেই তারা বিতরণ করবেন মুড়ি, মুরকি, বাতাসা ও দধি।
