বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনা-২ বেতাগী-বামনা ও পাথরঘাটা) আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের দ্বন্দ্বের সুফল যাচ্ছে বিএনপির ঘরে। এমনই ধারণা এখানকার আাসনের ভোটারদের। জানা গেছে, চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী জোটবদ্ধ হয়ে প্রার্থী দেওয়া হলে তাদের রয়েছে শক্ত অবস্থান। এত দিনে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর ঐক্যের কারণেই সৃষ্টি হয়েছিল এই পরিস্থিতির। তবে সেই অবস্থান এখন হারাতে বসেছে তারা।
ভোট ভাগ হলে দুর্বল হবে তাদের অবস্থান। ফলে ধানের শীষ জিতে যাওয়ার উজ¦ল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে এখানে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসবেনা জামায়াত ও চরমোনাই। এখানকার ৩টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিলছে এমনই তথ্য। বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা ও পাথরঘাটা) উপজেলা নিয়ে এ নির্বাচনি এলাকা। জোটগতভাবে নির্বাচন করলে জয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ডা. সুলতান আহমদ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীমোঃ মিজানুর রহমান কাসেমী। জোটকে ছাড়া পালটাপালটি মনোনয়ন দাখিলের ঘটনাতেই পরিষ্কার হয়ে গেছে জামায়াত আর ইসলামী আন্দোলনের বিরোধ।
এ নিয়ে অবশ্য আরও কয়েক দিন আগে থেকেই মিলছিল আভাস। বরগুনা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, ১২ জন মনোনয়ন দাখিল করায় দাখিলের লড়াইয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত জেলার মধ্যে বরগুনা-২ আসন। এ সংসদীয় আসনে দাখিল করা ১২ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মধ্যে অবশ্য ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। বরগুনা-২ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ প্রার্থীরা হলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ নুরুল ইসলাম মনি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোঃ মিজানুর রহমান, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোঃ রফিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল লতিফ ফরাজী, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মোঃ সাব্বির আহমেদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোঃ নাজেস আফরোজ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোঃ কামরুজ্জামান লিটন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- বরগুনা-২ আসনে আমজনতার দল মনোনীত প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দিন আকাশ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মনোনীত প্রার্থী মোঃ সোলায়মান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শামীম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ রাশেদ উজ জামান। বরগুনায় এখন পর্যন্ত একটিমাত্র বরগুনা-২ আসনে জয়ের রেকর্ড আছে বলে দাবি ইসলামী আন্দোলনের। জামায়াতের দাবি তারাও পিছিয়ে নেই। জামায়াতের প্রার্থী ডা: সুলতান আহমেদ ১৯৯১ সাল থেকে এখানকার মানুষের সুখ-দু:খে পাশে রয়েছেন। ২০১৯ সালের একাদশ সাধারণ নির্বাচনে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে গোলাম সরোয়ার হিরু প্রার্থী মনোনীত হন।
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরপর দুইবার বরগুনা-২ আসন থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্ত স্থানীয়দের ধারনা এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী যখন বিএনপি তখন জোটগতভাবে জামাত ও চরমোনাইয়ের ভোটকে ধরা হয়েছিল তাদের উভয়ের জয়ের নিয়ামক শক্তি হিসাবে। স্থানীয়রা জানায়, এবারে মাঠের যেই অবস্থা তাতে ঐক্য থেকে জামাত কিংবা চরমোনাই এর যে কোন একজন আলাদা হয়ে গেলে জয় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে তাদের উভয়ের জন্য। অসম্ভব হয়ে যাবে জয়ের সেই সম্ভাবনা। লড়াই থেকে ছিটকে পড়ার মুখেই পড়বে এই দুই দল। ফলে এ আসনেই জয় পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বিএনপির। সরজমিনে ঘুরে বরগুনা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ভোটাররা বলছেন, জামায়াত-চরমোনাইর যে ঐক্য তা ছিল বিএনপির জন্য অশনিসংকেত।
শেষ পর্যন্ত এই ঐক্য না থাকলে ধানের শীষের জয় ঠেকানো সম্ভব হবে না কারও পক্ষে। ধানের শীষ মার্কার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ নুরুল ইসলাম মনির বেতাগী উপজেলার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এস.এম. নুরুল ইসলাম পান্না বলেন, এর ফলে আমরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় অবস্থান করলেও এমনিতেই বরগুনা-২ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে ধানে শীষ মার্কার প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি। সেখানে জামাত ও চরমোনই জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও কিংবা না করলেও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর বেতাগী উপজেলার সেক্রেটারি প্রভাষক শাহাদাত হোসেন বলেন, ডা: সুলতান আহমেদ এ আসনে নতুন কোন মুখ নয়। আর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এ আসনে সম্পূর্ণ নতুন এবং তার বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায়।
সুলতান আহমেদ ১৯৯১ সাল থেকে মানুষের পাশে রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন যে দাবি করছে তৎকালীণ সময় তাদের প্রার্থী গোলাম সরোয়ার হিরু তিনি দলগতভাবে নয় এককভাবে মিনার মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই প্রার্থীও এখন আমাদের সাথে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ডা: সুলতান আহমেদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৎকালীণ সময়ে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী খন্দকার এডভোকেট মাহাবুব হোসেনকে আসন ছেড়ে দিয়ে যে সুনাম ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তা এখনো মানুষ মনে ধরে রেখেছেন। তার পরও আমরা বলছি যে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর নিষ্পত্তি হোক।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেতাগী উপজেলা সভাপতি মাওলানা মো: ইউসুফ আলী বলেন, বর্তমান প্রক্ষাপটে সঙ্গত কারণেই আগের তুলনায় সারাদেশের ন্যায় এ আসনেও ইসলামী আন্দোলনের জনসমর্থন বৃদ্ধি ও মানুষের দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। তবুও এখনই তো সব শেষ হয়ে যায়নি। আলোচনা অব্যাহ রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।
