বরিশাল সদর-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় ছিল একাধিক নাম। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও তৃণমূল পর্যায়ে আলোচিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।
দুই নেতারই রয়েছে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থান, জনপ্রিয়তা ও নেতাকর্মীদের সমর্থন। ফলে শুরু থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে প্রত্যাশা ছিল ঐক্যের মাধ্যমে তারা এক মঞ্চে কাজ করবেন। সেই প্রত্যাশারই বাস্তব রূপ মিলেছে সম্প্রতি। নেতাকর্মীরা জানান, সদর আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপির ভোটের সমীকরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, রহমাতুল্লাহ ও সরোয়ার একসঙ্গে কাজ করলে ধানের শীষের বিজয় আরও নিশ্চিত হবে।
এই প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। তার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। বরিশাল নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকার এ.কে স্কুল মাঠে আয়োজিত শোকসভায় সরোয়ার বলেন,বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বরিশালের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে তিনি গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছেন।
বরিশালের প্রতিটি উন্নয়নের সঙ্গে তাঁর অবদান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সভাপতির বক্তব্যে রহমাতুল্লাহ বলেন,বেগম খালেদা জিয়া সবসময় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেছেন। কারাগারে যাওয়ার আগেও তিনি ঐক্যের কথা বলেছেন, মুক্তির পরও রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ না হলে তা তাঁর প্রতি অবমাননা হবে। আজ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে রহমাতুল্লাহ ধানের শীষ প্রতীকখচিত একটি চাঁদর মজিবর রহমান সরোয়ারের গায়ে পরিয়ে দেন। এ দৃশ্য দেখে মাঠজুড়ে করতালি ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকর্মীরা বলেন, দুই নেতাকে এক মঞ্চে ঐক্যবদ্ধভাবে দেখে তারা নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, এই ঐক্যের মধ্য দিয়েই বরিশাল সদর-৫ আসনে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করবে এবং নির্বাচনী মাঠে বিএনপির পথচলায় আর কোনো বাধা থাকবে না।
