More

    ঘুস না দেওয়ায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ

    অবশ্যই পরুন

    বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার বেতাগীতে একটি নালিশি মামলায় ঘুস না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এমন অভিযোগ উঠেছে বেতাগী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এমনকি নারী শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

    রোববার (১৮ জানুয়ারী) বিকালে বেতাগী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করে এসব দাবি করেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    উপজেলার বেতমোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বাদল লিখিত অভিযোগে জানান, সিআর ১৬৮/২৫ (বেতাগী) মামলার তদন্তভার পড়ে শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমানের ওপর। তদন্ত চলাকালীন জালাল উদ্দিন মাস্টারের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসার মামলার বিবাদী বেতাগীর উত্তর বেতমোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা আকতার এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বাদলের কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি বাদীর পক্ষ নিয়ে একটি ‘মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

    লিখিত অভিযোগে আরো জানানো হয়, মামলার অসংগতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মামলার নথিপত্রে বাদী মোসাঃ তাছলিমা দাবি করেন, ২০১৩ সালে তার ছেলেকে দপ্তরি পদে নিয়োগের জন্য তিনি ৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। তবে ২০১৩ সালে ওই বিদ্যালয়ে কোনো দপ্তরি নিয়োগের সার্কুলারই ছিল না। তৎকালীন অভিযুক্ত আফরোজা আকতার প্রধান শিক্ষক তো দূরের কথা, ছিলেন একজন সাধারণ সহকারী শিক্ষক। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন অন্য একজন।

    বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান বাদল বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই মামলা সাজানো হয়েছে। আমি বিগত ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। আমার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে এবং আমার স্ত্রীর চাকরি নিয়ে জটিলতা তৈরি করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে।
    বাদল অভিযোগ করেন, জালাল মাস্টারের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসারকে ‘খাম’ বা কমিশন না দিলে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দের চেক দেয়া হচ্ছে না। অনেক প্রধান শিক্ষক মান-সম্মানের ভয়ে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

    শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বাদল। তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নারী শিক্ষকদের “ভাসুর” বা “বেয়াই” সম্বোধন করে অশোভন আচরণ করেন। এমনকি অনেক নারী শিক্ষককে রাতের বেলা ডরমিটরিতে তার রুমে আসার জন্য মুঠোফোনে প্রস্তাব দেন বলেও গুরুতর অভিযোগ করেন তিনি।

    সাক্ষীর জবানবন্দি ও ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলার অন্যতম সাক্ষী বাদল মোল্লা সম্প্রতি আদালতে এফিডেভিট দিয়ে জানিয়েছেন, শিক্ষা অফিসার ও জালাল মাস্টার তাকে ভুল বুঝিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করিয়েছিলেন। আসলে তিনি ঘটনার কিছুই জানেন না।

    বেতাগী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াহিদুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি বিষয়টি তদন্ত করলেও এর আগে আরও একটি তদন্ত প্রতিবেদনে সেখানেও চাকুরির টাকা লেনদেনের স্বাক্ষীদের রেফারেন্স নিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হযেছে। অবশ্য মামলার বাদী লিখিত কোন প্রমাণ নেই। সেটি এখন আদালতের বিবেচনার বিষয়।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Navigating King Casino Reviews reveals unexpected user-friendly touches that stand out

    Exploring King Casino Reviews: User-Friendly Features That Make a Difference What Stands Out in King Casino Reviews? When diving into King...