More

    নুর-মামুনে বিভক্ত বিএনপি, গলাচিপা-দশমিনায় উত্তাপ

    অবশ্যই পরুন

    পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসনের জন্য ২০২৩ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি হয়েছিল; যার নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পদত্যাগী সদস্য পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন।

    আড়াই বছর আগে তাঁর এ উদ্যোগে দলের বিরোধ পুরো নিরসন না হলেও কিছুটা প্রশমিত ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরোনো বিরোধ নতুন করে তেতে উঠেছে। দুই উপজেলায় বিএনপির বিরুদ্ধে বিএনপি মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গলাচিপা-দশমিনায় ছোট আকারের একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে। তাই বড় আকারের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এজন্য গলাচিপায় ৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি এবং দশমিনায় ৪৪টির মধ্যে ১৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। স্বাধীনতার পর অংশগ্রহণমূলক সব নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

    ত্রয়োদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই। এবার প্রথমবারের মতো বিজয়ের স্বাদের অপেক্ষায় ছিল বিএনপি। হাসান মামুনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে আসন সমঝোতায় এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দল থেকে পদত্যাগ করে হাসান মামুন ঘোড়া মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

    দুই উপজেলায় দলের বড় অংশ তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। আর ২০২৩ সালে গঠিত কমিটির পদবঞ্চিতরা গেছেন নুরের সঙ্গে। নির্বাচন প্রশ্নে এই দুই পক্ষ এখন মুখোমুখি। প্রচার শুরুর পর গত ২৬ জানুয়রি দশমিনার চরবোরহান, ২৭ জানুয়ারি গলাচিপার বকুলবাড়িয়ায় ও ৩১ জানুয়ারি ডাকুয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দুই প্রার্থী পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রামণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন।

    ফলে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি নির্বাচনী উত্তাপ পটুয়াখালী-৩ আসনে। স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রচারের শুরুতে নুর বেকায়দায় ছিলেন। উপজেলা থেকে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যন্ত বিএনপির পদধারীরা হাসান মামুনের সঙ্গে ছিলেন। সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ১৭ জানুয়ারি দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্তির পর নেতাকর্মীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ফলে হাসান মামুনকে ছেড়ে নুরের ট্রাক মার্কার দিকে ঝুঁকেছেন কিছুসংখ্যক নেতা।

    গত মঙ্গলবার দুই উপজেলার যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ও পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বিগত কমিটির যারা নুরকে সমর্থন করছেন, তাদের পদায়ন করে গত সপ্তাহে দুই উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। তথ্যমতে, নির্বাচনী প্রচার শুরু ও দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্তির পর হাসান মামুনকে ত্যাগকারী বিএনপি নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিলুপ্ত দশমিনা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু ও সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা, গলাচিপা উপজেলার সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ রাঢ়ী। এ ছাড়া ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কিছু নেতা এবং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের নুরের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগ করছে হাসান মামুনের পক্ষ।

    তবে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি হাসান মামুনের নির্বাচন পরিচালনায় থাকা দায়িত্বশীলরা। আবার নুরের দল ছেড়ে হাসান মামুনকে সমর্থন জানানোর ঘটনাও ঘটেছে। গণঅধিকার পরিষদের দশমিনার আলীপুর ইউনিয়নের সদস্য সচিব রাসাদ হোসেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করে হাসান মামুনকে সমর্থন জানিয়েছেন। রাসাদ হোসেন বলেন, হাসান মামুন ভালো মানুষ। তাই তাঁর পক্ষে নেমেছি। দশমিনার বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম শানু পরে নুরকে সমর্থন করার পুরস্কার হিসেবে নতুন কমিটির সদস্য সচিব হয়েছেন। তিনি বলেন, হাসান মামুনকে দল মনোনয়ন দেয়নি।

    দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখে জোটের প্রার্থী নূরের পক্ষে কাজ করছি। হাসান মামুনকে ছেড়ে যাওয়া গলাচিপার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন খান নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ছাত্রদল, যুবদল থেকে শুরু করে ৪৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করছি। কোনো দিন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি।

    নির্বাচনের শুরুতে হাসান মামুনের সঙ্গে ছিলাম। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে ২৯ জানুয়ারি থেকে নুরের পক্ষে কাজ করছি। অন্যদিকে হাসান মামুনের পক্ষে থাকা গলাচিপার বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ৪৭ বছর আমরা এই আসনে এমপি পাইনি। তাই দলের পদপদবি ছেড়ে মামুন ভাইকে বিজয়ী করতে তাঁর সঙ্গে আাছি। এখানে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান।

    তাঁর বাবা সাবেক জাতীয় পার্টি নেতা শাহজাহান খান চিকনিকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে বরিশালে বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের হামলায় আহত হয়ে মারা যান শাহজাহান খান। তাঁর মৃত্যুর পর অনুসারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিপলু খান।

    দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তিনি শুরু থেকে নুরের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শিপলুর অনুসারী গলাচিপার নতুন কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন মিয়া বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করি না, তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। হাসান মামুন বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, যারা নির্বাচনে জিততে পারবে না তারা নির্বাচন বানচাল করার জন্য একের পর একটা ঘটনা ঘটাচ্ছে। ট্রাক মার্কার প্রার্থী নুর বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

    বিএনপির যারা নুরের সঙ্গে আছেন, তারা সুবিধাবাদী। গলাচিপা-দশমিনায় বিএনপির রাজনীতিতে তাদের কোনো অবদান নেই। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে হাসান মামুন আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন, ভোটারদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও নির্বাচনী এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    ​মির্জাগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ জাকির ফরাজী গ্রেপ্তার

    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে মাদকসহ মো. জাকির ফরাজী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর...